আপনি কি জানেন যে, সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে উসমান রাঃ’র নিজস্ব এ্যাকাউন্ট আছে!
আপনি জেনে অবাক হবেন যে, উসমান রাঃ’র অর্থায়নে মসজিদে নববীর পাশে একটি পাঁচতারকা হোটেল নির্মিত হচ্ছে ৷
রাসূলের নির্দেশে যখন মুসলমানরা একে একে মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করছিলো, তখন মদীনায় মুসলমানদের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে লাগলো ৷ ফলে নিত্য মানুষের চাহিদাও বাড়তে লাগলো ৷ মদীনায় মাত্র তিনটি কূপ ছিলো ৷ সবচেয়ে বড় কূপের নাম ছিলো ‘রুমা’৷ রূপটির মালিক ছিলো এক কৃপণ ইয়াহুদী ৷ সে পানির প্রতিটি ফোটার চড়া মূল্য নিত ৷ ফলে হিজরত করে আসা দরিদ্র মুসলমানদের জন্য পানি ক্রয় করা কঠিন হয়ে পড়ে ৷
উসমান রাঃ মুসলমানদের দূর্বিসহ জীবন দেখে ইয়াহুদীর নিকট কূপটি ক্রয়ের প্রস্তাব করেন ৷ ইয়াহুদী একবাক্যে নাকচ করে দেয় ৷ তিঁনি পুণরায় ইয়াহুদীর নিকট কূপের অর্ধেক ক্রয়ের প্রস্তাব করলেন ৷
ইয়াহুদীর জানা ছিলো যে উসমান রাঃ একজন শ্রেষ্ঠ ব্যবসায়ী ৷ ব্যবসায়ীক কলাকৌশল তাঁর ভালো জানা আছে ৷ ইয়াহুদী মনে করলো, উসমান রাঃ কূপের অর্ধেক ক্রয় করে পানির মূল্য দ্বিগুণ করবেন ৷ ফলে ইয়াহুদীর জন্যও পানির মূল্য তিন গুণ করার সুযোগ হবে ৷ তাই ইয়াহুদী কূপের অর্ধেক বিক্রিতে সম্মত হলো ৷
একদিনে কূপের যা আয় হবে তা ইয়াহুদী নিবে, দ্বিতীয় দিনে যা আয় হবে তা উসমান রাঃ নিবেন, এই শর্তে উভয়ের মাঝে চুক্তি শাক্ষর হলো ৷
এদিকে উসমান রাঃ যেদিন তাঁর পালা সেদিন কূপ জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেন ৷ মানুষ প্রয়োজনের দ্বিগুণ পানি মজুদ করে রাখে ৷ ফলে যেদিন ইয়াহুদীর পালা সেদিন কেউ কূপে যায় না ৷ এভাবে কিছুদিন পর ইয়াহুদী বাধ্য হয়ে উসমান রাঃ’র নিকট কূপের বাকি অংশ বিক্রির প্রস্তাব করে ৷ উসমান রাঃ বিশ হাজার দিরহাম দিয়ে বাকি অংশও ক্রয় করেন ৷ মদীনাবাসীর জন্য পুরো কূপ ওয়াকফ করে দেন ৷
এভাবে শতবর্ষ পর্যন্ত মুসলমানগণ ‘রুমা’ কূপ থেকে পানি পান করেছিলো ৷ একসময় কূপটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে ৷ কূপের চারপাশে খেজুর চাড়া অঙ্কুরিত হতে থাকে ৷ উসমানী খলিফাগণের পরিচর্যায় কূপটিকে কেন্দ্র করে বিশাল খেজুর বাগান তৈরি হয় ৷ বাগানে প্রায় একহাজার পাঁচশত পঞ্চাশটি খেজুর বৃক্ষ আছে ৷ উসমানী আমলে বাগানটি ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ে অধিনে পরিচালিত হতো ৷
প্রতি বছর খেজুর বিক্রি করে অর্ধেক মূল্য এতিম, দরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধ দেয়া হত ৷ বাকি অংশ ব্যাংকে “উসমান বিন আফ্ফান” নামের এ্যাকাউন্টে জমা করা হতো ৷ সেই জমানো টাকা দিয়ে মসজিদে নববীর পাশে একখণ্ড জমি কিনে সেখানে “উসমান বিন আফ্ফান” নামে একটি পাঁচতারকা হোটেল নির্মাণ করা হচ্ছে ৷ নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে ৷ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোটেল থেকে প্রতি বছর পঞ্চাশ মিলিয়ন সৌদি রিয়াল আয় করা যাবে ৷ যার অর্ধেক এতিম, মিসকীনদের জন্য ব্যয় করা হবে ৷ অর্ধেক জমা করা হবে “উসমান বিন আফ্ফান” এ্যাকাউন্টে ৷
সুবহানাল্লাহ,
এই হচ্ছে আল্লাহর সাথে শেয়ার ব্যবসা ৷ যা চোদ্দশত বছরের পুরনো প্রজেক্ট ৷ এই ব্যবসায় কারো কোনদিন লস হয়নি ৷ আল্লাহ আমাদেরকে, হোটেল উসমানে থেকে মসজিদে নববী জিয়ারত করার তাওফিক দান করুক ৷
রাসূল সাঃ বলেন, প্রত্যেক নবীর একজন করে ঘনিষ্ট সঙ্গী থাকে ৷ আমার ঘনিষ্ট সঙ্গী হলো উসমান ৷

No comments:
Post a Comment