Latest News

Showing posts with label এক্সক্লুসিভ. Show all posts
Showing posts with label এক্সক্লুসিভ. Show all posts

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ স. এর রওজা মোবারকের ভিতরের দুর্লভ দৃশ্য (ভিডিও)




প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর রওজা মোবারক এর ভিতরের দৃশ্য এক সময় দেখার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় অসম্ভব।

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব রাসুল (সঃ) এর এই পবিত্র রওজা মোবারক দেখার সৌভাগ্য কে না পেতে চায়। আসুন সংরক্ষিত কিছু দুর্লভ দৃশ্য এই ভিডিওতে।






যে কারণে কি-বোর্ডে A,B,C...X,Y,Z পাশাপাশি থাকে না

যে কারণে কি-বোর্ডে A,B,C...X,Y,Z পাশাপাশি থাকে না


কম্পিউটার থেকে ল্যাপটপ, কোথাওই ইংরেজি বর্ণমালার লেটারগুলি কি-বোর্ডে পাশাপাশি থাকে না। সেই আদ্যিকালের টাইপ রাইটারের মতো ছড়ানো ছিটানো। লেখার সময় বেশ খুঁজে নিতে হয় লেটারগুলিকে। কিন্তু, কী কারণে কি-বোর্ডে এভাবে রাখা হয় লেটারগুলি?

এর আসল কারণ হল QWERTY। এটিই হলো প্রথম কমার্শিয়াল টাইপরাইটারের লে-আউট। ক্রিস্টোফার শোলেস ১৮৭৪ সালে এই লে-আউটটি তৈরি করেন। এর নাম দেওয়া হয়েছিল 'Remmington Number 1'। কিন্তু কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেন, লেটারের বাটনগুলো হয় আটকে যাচ্ছে, নয়তো একটা আরেকটার সঙ্গে ধাক্কা খাচ্ছে। যার ফলে টাইপ করার সময় মিস হয়ে যাচ্ছে লেটার। 

ফলে এই সমস্যা দূর করতেই,  কমন লেটারগুলিকে পরস্পরের থেকে দূরে রাখা হয়। যাতে টাইপ করার সময় কোনও বাটন আটকে না যায়। আর তাতে কাজও হয়। পরে আধুনিক কম্পিউটারেও সেই একই লজিকই ফলো করা হয়। সূত্র: জি নিউজ

‘এই নারী ফেসবুকে থাকলে জলদি ডিলিট করুন’

‘এই নারী ফেসবুকে থাকলে জলদি ডিলিট করুন’


   মধু শাহ অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবি। ছবি : জি নিউজ

‘এই নারী আপনার ফেসবুকে থাকলে জলদি ডিলিট করুন’-এক নারীর ছবিসহ এমনই একটি সংবাদ পরিবেশন করছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। জি নিউজের খবর অনুযায়ী এই নারীর ছবিসংবলিত ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো সবই স্প্যাম অ্যাকাউন্ট। আর এই অ্যাকাউন্ট ফেসবুকে থাকলে আপনার অ্যাকাউন্টটিও নিরাপদ নয়।

এই খবরটি ভারতের খ্যাতনামা বিভিন্ন অনলাইনসহ সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পর খবরটি এখন ‘ভাইরাল’। খবর অনুযায়ী, মধু শাহ নামে একই নামে একই ছবিতে একই ‘নারীর’ ৩৪টি অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার অধিকাংশেরই বন্ধুসংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি।

জি নিউজের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি এই অ্যাকাউন্টটি থেকে বিভিন্ন স্প্যাম মেসেজ লাখো অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘ভিডিও এবং মেসেজের’ স্প্যাম মেইলগুলো ছড়ানো হয়েছিল এই মধু শাহ নামের অ্যাকাউন্টগুলো থেকেই।

আর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওই স্প্যাম মেইলগুলোই বিভিন্নভাবে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকের বিষয়ে দায়ী ছিল। আর তাই এই অ্যাকাউন্টগুলো বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা।

সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে নকল ডিম



নকল বা কৃত্রিম ডিমের কথা এখন সবাই জানেন। অনেকেই বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও এখন আর সেটা গুজবের পর্যায়ে নেই।

কেননা খোদ বাংলাদেশেই নকল ডিম কেনার ও খাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের হয়েছে। এবং আক্ষরিক অর্থেই চিন থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ডিম ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশে-ভারত-মায়ানমার সহ আশেপাশের অনেক দেশেই।

মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট মর্নিং নিউজ এজেন্সি-সহ বেশ কয়েকটি বিদেশি সম্প্রতি জানিয়েছে যে, মায়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গুনসহ ওই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তের চোরাপথে চিন থেকে কৃত্রিম ডিম পাচার হচ্ছে।

চোরাপথে সেই ডিম ভারত-সহ আশপাশের অন্যান্য দেশেও সয়লাব হয়েছে নকল ডিমে। যা দেখতে একদম হাঁস-মুরগির মতো।

প্রসঙ্গত, ২০০৪ সাল থেকেই তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম ডিম। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘দ্য ইন্টারনেট জার্নাল অফ টক্সোকোলজি’তে কৃত্রিম ডিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া আছে। তাতে অবশ্য একথাও বলা আছে যে, কৃত্রিম ডিমে কোনও খাদ্যগুন নেই। নেই কোনও প্রোটিন নেই। বরং তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। চীনে তৈরি হওয়া এসব কৃত্রিম বা নকল ডিম এক কথায় বিষাক্ত। কৃত্রিম ডিম তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক উপাদান ক্যালসিয়াম কার্বনেট, স্টার্চ, রেসিন, জিলেটিন মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন এই ধরনের ডিম খেলে স্নায়ুতন্ত্র ও কিডনিতে সমস্যা হতে পারে। ক্যালসিয়াম কার্বাইড ফুসফুসের ক্যান্সারসহ জটিল রোগের কারণ।

কীভাবে চিনবেন নকল ডিম?


  • -কৃত্রিম ডিম অনেক বেশি ভঙ্গুর। এর খোসা অল্প চাপেই ভেঙে যায়।
  • -এই ডিম সিদ্ধ করলে কুসুম বর্ণহীন হয়ে যায়।
  • -ভাঙার পর আসল ডিমের মতো কুসুম এক জায়গায় না থেকে খানিকটা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় পুরো কুসুমটাই নষ্ট ডিমের মত ছড়ানো থাকে।
  • -কৃত্রিম ডিম আকারে আসল ডিমের তুলনায় সামান্য বড়
  • -এর খোলস খুব মসৃণ হয়। খোসায় প্রায়ই বিন্দু বিন্দু ফুটকি দাগ দেখা যায়।
  • -রান্না করার পর এই ডিমে অনেক সম্যেই বাজে গন্ধ হয়। কিংবা গন্ধ ছাড়া থাকে। আসল কুসুমের গন্ধ পাওয়া যায় না।
  • -নকল ডিমকে যদি আপনি সাবান বা অন্য কোন তীব্র গন্ধ যুক্ত বস্তুর সাথে রাখেন, ডিমের মাঝে সেই গন্ধ ঢুকে যায়। রান্নার পরেও ডিম থেকে সাবানের গন্ধই পেতে থাকবেন।
  • -নকল ডিমের আরেকটি উল্লেখ্য যোগ্য লক্ষণ হলো ডিম দিয়ে তৈরি খাবারে এটা ডিমের কাজ করে না। যেমন পুডিং বা কাবাবে ডিম দিলেন বাইনডার হিসাবে। কিন্তু রান্নার পর দেখবেন কাবাব ফেটে যাবে, পুডিং জমবে না।
  • -নকল ডিমের আকৃতি অন্য ডিমের তুলনায় তুলনামূলক লম্বাটে ধরণের হয়ে থাকে।
  • -নকল ডিমের কুসুমের চারপাশে রাসায়নিকের পর্দা থাকে বিধায় অক্ষত কুসুম পাওয়া গেলে সেই কুসুম কাঁচা কিংবা রান্না অবস্থাতে সহজে ভাঙতে চায় না।



জীবনে কিছুই করতে পারবি না, ওয়ার্নারকে শিক্ষকের ভবিষ্যদ্বাণী


ছোট বেলায় পড়াশোনায় বেশ অমনোযোগী ছিল ওয়ার্নার। তাই শিক্ষক রেগে একদিন স্কুলের রিপোর্ট কার্ডে লিখে দিয়েছিলেন, ‘সে শুধু সং সাজতে চায়।’

এমনকি ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন,  বড় হয়ে কিছুই করতে পারবে না ওয়ার্নার। অথচ সেই দুষ্টু শিক্ষার্থী ওয়ার্নারকে এখন এক নামেই চেনে ক্রিকেট বিশ্ব।



সম্প্রতি বাড়ির জিনিসপত্র সরাতে গিয়ে স্কুলের এই রিপোর্ট কার্ডটি খুঁজে পেয়েছেন ওয়ার্নার। ২০০৪ সালের এই রিপোর্ট কার্ডটি ছিল তাঁর দ্বাদশ শ্রেণির। সে সময় স্কুলের পড়াশোনার চেয়ে ক্রিকেট মাঠের দিকেই বেশি মনোযোগ ছিল অস্ট্রেলিয়ার এই ক্রিকেটারের। রিপোর্ট কার্ডটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার দেওয়ার সময় সে কথা নিজেইস্বীকার করে নিয়েছেন ওয়ার্নার।

ছবিটির ক্যাপশন হিসেবে লিখেছেন, ‘এই শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন যে, তুমি বড় হয়ে কোনো কিছুই ভালোভাবে করতে পারবে না। আমি যেটা সবচেয়ে ভালো পারতাম, সেটাই অনুশীলন করে গেছি। আর সেটা ছিল ক্রিকেট।’ সত্যিই সেই শিক্ষক হয়তো ক্রিকেট মাঠে কখনো দেখেননি ওয়ার্নারকে। না হলে এমন মন্তব্য তাঁর করার কথা না।

অস্ট্রেলিয়ার ১৩২ বছরের ক্রিকেট ইতিহাসে ওয়ার্নারই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি একটিও ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ না খেলে সরাসরি সুযোগ পেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। ২০০৬ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার পর অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচকদের নজর কেড়েছিলেন ওয়ার্নার। ২০০৯ সালে মাত্র ২৩ বয়সেই তাঁর অভিষেক হয়ে যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই খেলেছিলেন ৪৩ বলে ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। তার পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই বাঁহাতি ওপেনারকে। ২০১৫ সালে তাঁকে দেয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব।

ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা আইপিএলে অধিনায়ক হিসেবেও দারুণ সফল ওয়ার্নার। এবারের মৌসুমে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। তিনিই করেছেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১৫ রান। ১১ ম্যাচ শেষে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে তাঁর দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

২৬ বছর পরও অক্ষত কোরআনে হাফেজের লাশ



নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২৬ বছর পর অক্ষত রয়ে গেছে কোরাআনে হাফেজ এর লাশ! এমন কথা শোনার পর শতশত মানুষ তা দেখতে ভীড় করেন। 

সাংবাদিকরা খবর পেয়ে ঘটনার সত্যতা পান।

সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বুচ্চ গ্রাম সংলগ্ন নদীর পাশেই নদী ভাঙ্গনের ফলে মাটি চলে যাওয়ায় লাশটি দেখা যায়। 

পরে স্থানীয় লোকজন লাশটিকে পুনরায় দাফন করেন। 

যেখান থেকে পরিচালিত হয় সমগ্র ইন্টারনেট…



গুগলে কোনো বিষয় সার্চ করলে আপনার সামনে অসংখ্য ফলাফল চলে আসে, যা থেকে আপনি তথ্যের চাহিদা মেটানো, বিনোদন, সংবাদ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ধুর খবর সংগ্রহ করেন।

মুহূর্তেই এ কাজটি সম্পন্ন হওয়ায় আপনি বুঝতেও পারবেন না, কতো হাজার মাইল ঘুরে আপনার চোখের সামনে এল তথ্যগুলো। এসব তথ্যই চোখের পলকে সরাবরাহ করার জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইন্টারনেটের অবকাঠামো।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘ক্যারিয়ার হোটেল’-এর ভেতর প্রবেশ করেছিলেন পিটার গ্যারিট্যানো। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ওইয়ার্ড।

‘ক্যারিয়ার হোটেল’গুলো মূলত ডেটা সেন্টার, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ইন্টারনেট সচল রাখে। পরিদর্শন শেষে তিনি জানিয়েছেন সেখানকার ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে।

সারা বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় বড় বড় সার্ভারের। এছাড়া রয়েছে নানা নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম। এ ধরনের বহু সরঞ্জাম একত্রে রাখা হয় কোলোকেশন সেন্টারে। এগুলো এক ধরনের ডেটা সেন্টার, যাকে কখনো কখনো ক্যারিয়ার হোটেলও বলা হয়। এসব অবকাঠামোর বিস্তারিত নিরাপত্তার জন্য সাধারণত প্রকাশ করা হয় না। এগুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ একটি নিউ ইয়র্কে অবস্থিত।


ক্যারিয়ার হোটেল নামে নিউ ইয়র্কের ইন্টারনেট ডেটা সেন্টারের অভ্যন্তরে রয়েছে বিশাল সব সার্ভার, বহু নেটওয়ার্ক হাব ও অসংখ্য তারের জঙ্গল। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করার জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত জেনারেটর রয়েছে এখানে। এছাড়া ডেটা সেন্টার ঠাণ্ডা করার জন্য রয়েছে বিশাল কুলিং সিস্টেম।


নিউ ইয়র্কের এ ডেটা সেন্টার বা ক্যারিয়ার হোটেলে এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে ভ্যারাইজন নেটওয়ার্কের সংযোগ সাধিত হয়েছে। এছাড়া গুগলের সঙ্গেও তাদের সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভির প্রোভাইডারের আওতায় থাকা গ্রাহকরা যখন গুগলে কোনো বিষয় সার্চ করে তখন তা এ ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে গুগলের সার্ভার থেকে তথ্যগুলো পেয়ে যায় চোখের নিমিষে।

বিভিন্ন ইন্টারনেটনির্ভর প্রতিষ্ঠান এ ডেটা সেন্টারে তাদের সার্ভার স্থাপন করতে পারে। আর এতে তারা ওয়েবসাইট ও তথ্য ইন্টারনেটে প্রদর্শন করতে পারে।


নিউ ইয়র্কে মোট পাঁচটি ক্যারিয়ার হোটেল বা ইন্টারনেট ডেটা সেন্টার রয়েছে। এগুলোর কার্যক্রম এতটাই গোপন যে তাদের অধিকাংশ নিজেদের নামও প্রকাশ করতে চায় না। তাদের মধ্যে দুটির নাম টেলএক্স ও জ্যায়ো। এদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।

প্লাস্টিক পণ্য আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে তিল তিল মৃত্যুর দিকে




প্রতিদিন বিশ্বে প্রতি পাঁচ মিনিটে প্রায় ২০ লক্ষ প্লাস্টিক বোতল বিক্রয় হয়। নির্দ্বিধায় বলা যায় যে প্লাস্টিক হচ্ছে পুরো বিশ্বেই বহুল ব্যবহৃত একটি সামগ্রী। কিন্তু নতুন গবেষণায় জানা যায় যে প্লাস্টিক অজান্তেই ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দেয়।

আমরা অনেক দিন থেকেই জেনে আসছি যে বোতলজাত পানি বা মিনারেল ওয়াটার সাধারণ পানি থেকে ভালো, কারণ সেটা থাকে বিশুদ্ধ এবং ভিটামিনে ভরপুর। সাধারণত কলের পানিকে বোতলে ভরে পরিবেশ অবান্ধব জল যোজন পদ্ধতিতে তা বিশুদ্ধ করা হয়। সত্যি কথা বলতে কি, কেবল প্লাস্টিক বোতল নয় বরং বোতল ছাড়াও প্লাস্টিকের যে কোন পণ্য আসলে মানুষের জন্য বিপদজনক। তাই প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করার আগে সেগুলোর প্যাকেটে গায়ের লেখা ও চিহ্ন দেখে নেয়া খুবই জরুরি। কীভাবে বুঝবেন আপনার ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্যটি নিরাপদ কিনা? শিখে নিন সেই পদ্ধতিটি।

প্লাস্টিক পণ্যে থাকা বিভিন্ন চিহ্ন ও তার অর্থ :- আপনারা সবাই একটু খেয়াল করলেই দেখবেন যে, যে কোনো ভালো মানের পানির বোতলের একদম নিচে একটি ত্রিকোণ চিহ্নের ভেতরের যে কোনো একটি শব্দ বা একটি সংখ্যা দেয়া থাকে। সেটা ১ থেকে ৭ এর ভেতরে হয়।এই চিহ্নটির মাধ্যমেই আপনি বুঝতে পারবেন আসলে বোতলটি সত্যিকার ভাবে নিরাপদ কিনা।

যদি নম্বর ১ থাকে :- যদি বোতলের গায়ে ১ লেখা থাকে তাহলে তা PET বা PETE হিসেবে পরিচিত যার অর্থ হচ্ছে এই সামগ্রীটি একবারই মাত্র ব্যবহার করা যাবে। কারণ বিভিন্ন দেশের einvironmental protection agency(EPA) এর মতে এসব সামগ্রী পুনরায় ব্যবহার করলে তা থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ বের হতে পারে। এসব প্লাস্টিক থেকে antimony নামক এক প্রকার ভারি ধাতু নির্গত হতে পারে যা আমাদের দেহের হরমোনের কাজের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারে। এটি থেকে ক্যান্সার উৎপাদক পদার্থও দেহে প্রবেশ করতে পারে।

যদি নম্বর ২ থাকে :- যদি প্লাস্টিক সামগ্রীটির ত্রিকোণের ভেতরে ২ লিখা থাকে তাহলে তা HDPE বা HDP হিসেবে পরিচিত যা ভাল মানের প্লাস্টিক হিসেবে বিবেচিত। এর কারণ হচ্ছে এই মানের প্লাস্টিকটি অন্য প্লাস্টিকের মত পানির সংস্পর্শে এসে রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে না।

যদি নম্বর ৩ থাকে :- এটি V বা PVC ধরনের যদি বোতলের গায়ে ৩ লেখা থাকে। আর এর মানে হচ্ছে ২ ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে যা আমাদের দেহের হরমোনকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু তারপরও সারা বিশ্বেই PVC ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার হয়ে আসছে।

যদি নম্বর ৪ থাকে :- LDPE ধরনের প্লাস্টিক হচ্ছে ৪ নাম্বার। এর অর্থ হচ্ছে এটি পানির সংস্পর্শে এসে কোন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নির্গত করে না। যদিও তাদের বেশির ভাগই অধিকাংশ প্লাস্টিক ব্যাগেই থাকে।

যদি নম্বর ৫ থাকে :- PP বা ৫ নাম্বার হচ্ছে ভালো মানের প্লাস্টিক। সাদা রঙ দেখে এই মানের প্লাস্টিক চেনা যায়। অনেক সময় এটা দেখতে একদম স্বচ্ছ হয়। PP প্লাস্টিক বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দইয়ের কাপ ও সিরাপের বোতলে দেখা যায়।

যদি নম্বর ৬ থাকে :- ৬ লেখা প্লাস্টিক সামগ্রী যদিও STIREN নামক পদার্থ নির্গত করে যা ক্যান্সার উৎপাদক। তবুও এই ধরনের প্লাস্টিক বিভিন্ন খাবার প্যাকেট করার জন্য ও কফি মগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

যদি নম্বর ৭ থাকে :- সবশেষে যখন প্লাস্টিকের গায়ে কোন কিছু লেখা থাকে না তা PC ধরনের প্লাস্টিক হিসেবে পরিচিত। লেভেল ছাড়া বা কিছু লিখা ছাড়া প্লাস্টিক কোন ভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ এসব ধরনের প্লাস্টিক থেকে BPA নির্গত হয়। BPA এর পুরো নাম হচ্ছে bisphenol A যা শিল্প খাতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ এবং এটি আমাদের দেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত PC ধরনের প্লাস্টিক খাবার রাখার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন ধরনের স্পোর্টস ড্রিঙ্কস ইত্যাদির বোতল হিসেবে ব্যবহার হয়। আর সবচেয়ে খারাপ যে ব্যাপারটা হয় সেটা হচ্ছে ছোট বাচ্চাদের বোতল তৈরিতেও ব্যবহার হয়ে থাকে।

অতএব, যেসব প্লাস্টিক সামগ্রীতে ২, ৪ বা ৫ নম্বর থাকে সেসব নিশ্চিন্তে ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু যদি ১,৩,৬ বা ৭ থাকে তাহলে বুঝতে হবে যে সেসব সামগ্রী ব্যবহার করলে তা থেকে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থ অবশ্যই শরীরে প্রবেশ করবে। তাই চলুন আমরা এখনই সাবধান হই। নিজে রাসায়নিক উপাদানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচি এবং প্রিয়জনকেও বাঁচাই।

শপিং মল-এর দরজায় আচমকা তীব্র হাওয়া টের পেয়েছেন? কেন থাকে জানেন?



শপিং মল বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢোকার সময়ে একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? স্বয়ংক্রিয় কাচের দরজা খুলে যাওয়ার পরে হুস্ করে একটা হাওয়া মাথার উপর থেকে আসে। কী সেটা?

দরজা খুললেই প্রবল হাওয়া আসে কেন?

কী ভাবছেন, কর্তৃপক্ষ আপনাকে ঠান্ডা করার চেষ্টা করছে? স্বাগত জানাচ্ছে ঠান্ডা হাওয়া দিয়ে? ভুল ধারণা থেকে জলদি বেরিয়ে আসুন। এর নেপথ্যে রয়েছে নিখাদ বিজ্ঞান।

স্বয়ংক্রিয় কাচের দরজার ওপারে পুরোটাই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাঁধা রয়েছে গোটা এলাকা। প্রতিবার দরজা খোলার সময়ে বাইরের গরম (গ্রীষ্মকালে), ঠান্ডা (শীতে) বা ভিজে (বর্ষায়) হাওয়া ভিতরে ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভাবে বারেবারে অন্য তাপমাত্রার হাওয়া ঢুকলে পুরো এয়ারকন্ডিশনিং ব্যবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।

সে কারণেই প্রবল হাওয়া উপর থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় দরজা বরাবর। এই হাওয়ার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে বাইরের হাওয়া ভিতরে ঢুকতে পারে না। শপিং মল বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে দরজা খোলা রাখতে হয় বেশিরভাগ সময়েই। প্রতি মুহূর্তে সেখানে দরজা খুলছে। ফলে এই হাওয়ার ব্যাপারটা থাকা জরুরি। এ ছাড়াও এই হাওয়ার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে বাইরে থেকে পোকামাকড় বা ময়লাও ঢুকতে পারে না। 

অনেক পুরুষেরও কেন বড় স্তন হয়?


এখন সিক্স প্যাক অ্যাব, চওড়া ছাতি, পুরুষালি চেহারার জন্য মাননসই স্তন পেতে চিকিৎসকের ছুড়ির তলায় আসতে পিছপা হচ্ছে না তরুণ প্রজন্ম। অথচ ১০ বছর আগেও পুরুষ স্তন নিয়ে সে হারে মাথাব্যাথা ছিল না তরুণদের মধ্যে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে স্তন পরিবর্ধনের ঘটনা মূলত ঘটে পুরুষ ও নারী হরমোনের অসামঞ্জস্যের জন্য। অ্যান্ড্রোজেন হল পুরুষ হরমোন এবং ওয়েস্ট্রোজেন বল হল নারী হরমোন। ১৯ থেকে ২৫ বছর বয়সের ছেলেদের মধ্যে এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়। যদিও মধ্যবয়সে গিয়ে যে এই সমস্যা একেবারেই হয় না তা নয়।

সাধারণভাবে মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা থাকে পুরুষদের শরীরে পুরুষ হরমোন ও মেয়েদের শরীরে নারী হরমোন থাকে। কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভুল। দুই হরমোনই পুরুষ ও নারীর উভয়ের শরীরে থাকে। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোজেনের প্রভাব বেশি থাকে, আর মেয়েদের শরীরে ওয়েস্ট্রোজেনের। কিন্তু যদি কোনও পুরুষের শরীরে যদি স্বাভাবিকভাবে ওয়েস্ট্রোজেন হরমোনের গ্রহণক্ষমতা বেশি হয়, তাহলে স্থূল স্তনের সমস্যা হতে পারে। তবে এমন রোগীর সংখ্যা খুব কম। মূলত অপুষ্টি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্টেরয়েডের ফলে এই ধরনের সমস্যা বেশি হয়।

পুরুষের স্তন থাকার কারণ হতে পারে গোইনোকোম্যাস্টিয়াও। মূলত পুরুষের ছাতি হবে শক্ত, পেটানো। কিন্তু কোনো কোনো পুরুষের স্তনবৃন্তের ঠিক নীচে শক্ত টিস্যু তৈরি হয়। ১ থেকে ২ ইঞ্চ লম্বা হয় সেই টিস্যু। দু’টি বৃন্তের নীচেই গজিয়ে ওঠে তা। ফলে শক্ত ও টাইট হওয়ার পরিবর্তে নরম হয়ে ওঠে বুক, ঝুলে আসে সামনের দিকে। দেখে মনে হয় নারীর মতোই দু’টি স্তন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে যাকে বলা হয় গাইনোকোম্যাস্টিয়া।

এর কারণ :
• বয়ঃসন্ধির সময় হরমোনের ভারসাম্য হারালে পুরুষের স্তনবৃন্তের নীচে টিস্যু তৈরি হতে পারে।
• নিষিদ্ধ ড্রাগ, ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ খেলেও হতে পারে এই সমস্যা।
• গোইনোকোম্যাস্টিয়া কোনো রোগ নয়। এটি অন্য রোগের উপসর্গ মাত্র।
• নারী শরীরে ওয়েস্ট্রোজেন হরমোন বাড়লে স্তনের বৃদ্ধি ঘটে। পুরুষ শরীরে স্তন বাড়তে পারে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন বেশি নিঃসরিত হলে।
গাইনোকোম্যাস্টিয়ার চিকিৎসা :
• তিন বছরের মধ্যে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তার জন্য প্রতি মাসে চিকিৎসকের কাছে স্তনের আকার মাপিয়ে নিতে হবে। সেই সঙ্গে পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
• গাইনোকোম্যাস্টিয়া রোধ করতে নিষিদ্ধ ড্রাগ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
• স্তনের আকার ছোটো করতে ওষুধও খেতে দেন চিকিৎসকরা। তাতে বৃন্তের নীচে গজিয়ে ওঠা টিস্যু নির্মূল হয়ে যায়।
• অস্ত্রোপচার করানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
• যে রোগের উপসর্গ হিসেবে গাইনোকোম্যাস্টিয়ার আবির্ভাব, সেটি চলে যেতে পারে সেই রোগটি সারলেও।

জল্লাদ শাহজাহানের জীবনের করুণ কাহিনী




যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা পালন করেবে শাজাহান ও রাজু। তবে জল্লাদ শাজাহান অন্য সব জল্লাদের চেয়ে আলাদা। একসময় চাকরি করতেন সেনাবাহিনীতে জল্লাদ শাজাহান। কিন্তু ভাগ্য তাকে টেনে নিয়ে গেছে অন্ধকার জগতে। এরপর থেকে জেলের সাথে নিজের জীবনকে জড়িয়ে নিয়েছেন। আটক হয়ে ৩৬ মামলায় ১৪৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন তিনি।

তবে এখন তিনি আসামী হিসেবে নয় সবার কাছে পরিচিত জল্লাদ হিসেবে। জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে কারাবন্দি। এই জল্লাদ এ পর্যন্ত মোট ৩২ জনকে ফাঁসি দিয়েছেন। জল্লাদ শাহজাহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫ ঘাতককে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছেন। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রথম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা পালন করেন শাজাহান। এছাড়া এদেশের কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামি খুকু, মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করেন জল্লাদ শাহজাহান।

এদেশে তিনিই একমাত্র জল্লাদ যিনি একরাতেই দুই কারাগারে ৪ আসামিকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়েছেন। জেনেনিন জল্লাদ শাজাহানের জীবনের করুণ কাহিনীঃ জল্লাদ শাহজাহানের পরিচয় পুরো নাম মো: শাহজাহান ভূঁইয়া। জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৫০ সালের ২৬ মার্চ। জন্মস্থান নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামে। তিন বোন এক ভাই।

বাবার নাম হাসান আলী ভূঁইয়া। মাতা সব মেহের। পড়াশোনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম খাস হাওলা ফ্রি প্রাইমারি স্কুল, মাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন পারলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং সর্বশেষ উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করেছেন নরসিংদী সরকারি কলেজে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। ১৯৭৪ সালে তিনি এইচএসসি পাশ করেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর হচ্ছে- ২৬৯১৬৪৯১০৬১২৯।সেনাবাহিনীতে ছিলেন ৩ বছর ছোট থেকেই সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ড তাকে খুব আকর্ষণ করতো। বিশেষ করে তাদের শৃঙ্খলাবোধ তার সব থেকে বেশি ভালো লাগতো।

তাই মনে প্রাণে সব সময় স্বপ্ন দেখতেন সুযোগ পেলেই সেনাবাহিনীতে চাকরি করবেন। বাবার মাধ্যমে তিনি একবার খবর পান সেনাবাহিনীতে লোক নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেনাবাহিনীর চাকরির জন্য অংশগ্রহণ করলে তিনি টিকে যান। যথা সাধ্য তিন বছর সেনাবাহিনীতে থাকার পর বড় অফিসারদের ধমকের কারণে জিদ করে বাড়ি চলে আসেন।

তিনি বলেন, অফিসারদের কমান্ড আমার ভালো লাগতো না। কারণ আমি তাদের থেকে পড়াশোনা এবং পারিবারিক দিক থেকে অনেক এগিয়ে ছিলাম। তিনি চাকরি করবেন না বলে ১১ মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার সেনাবাহিনীতে চাকরি করার স্বপ্নের কবর এখানেই রচিত হয়।নরসিংদী জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ স্বাধীনতার যুদ্ধ জয়ের ৪ বছর পর। তখন তিনি তরতাজা তরুণ। এইসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছেন ২ বছর আগে। মনের অজান্তে ভালো লেগে যায় কমিউনিস্ট পার্টি। সেখানে তার নাম লেখিয়ে ফেলেন। তার পারফরমেন্স দেখে কেন্দ্রে থেকে তাকে ডেকে পাঠানো হয়। তাকে নরসিংদী জেলার কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতির দায়িত্ব দিতে চাইলে তিনি রাজি হয়ে যান। ১৯৭৬ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনি জেলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

অপরাধ জগতে প্রবেশের ইতিবৃত্ত ছেলে হিসেবে শাহজাহান খুবই ভালো ছেলে ছিলেন। পারতপক্ষে কারও উপকার ছাড়া ক্ষতি করার চেষ্টা করতেন না। তবে তিনি প্রচণ্ড বন্ধু পাগল মানুষ ছিলেন। একবার তার গ্রামে নারী ঘটিত একটি ঘটনা ঘটে। শাহজাহানের দুই বন্ধুসহ তার নামে অভিযোগ ওঠে। গ্রামে তাকে নিয়ে বিচারে বসা হয়। সেই বিচারে তাকে অপরাধী প্রমাণিত করে তাকে সাজা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তার ক্ষিপ্ততা শুরু। তিনি অপমান সহ্য করতে না পেরে সিদ্ধান্ত নেন অপরাধ জগতে প্রবেশ করে এই অপমানের চরম প্রতিশোধ নিবেন। যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজ। তারপর অনেক লম্বা ইতিহাস।

যেভাবে আটক হন নারীঘটিত ওই ঘটনার পরে তিনি বাংলাদেশের একজন বহুল পরিচিত সন্ত্রাসীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন। তাছাড়া কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করার পর থেকে যেকোন অপারেশনে তার চাহিদা দিনকে দিন বৃদ্ধি পেতে থাকলো। তার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অপারেশন করেছিলেন ১৯৭৯ সালে মাদারীপুর জেলায়। এবং এটাই ছিল তার জীবনে সর্বশেষ অপারেশন। সেখানে তার অপারেশন শেষ করে মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে শাহজাহানের দল মানিকগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যাবে। মানিকগঞ্জে পুলিশ চেক পোস্ট বসালে শাহজাহান তার ওই এলাকার বাহিনীর মাধ্যমে তা জেনে যান। সব জেনেই ওই এলাকা দিয়ে ঢাকায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। রাতভর মানিকগঞ্জে পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধ করেন কিন্তু পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি। এরপর ঢাকায় পৌঁছে যখন নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রতিমধ্যে পুলিশ তাকে আটক করে ফেলে।

তার গতিময় জীবনের এখানেই সমাপ্তি এবং এরপর থেকে তার বন্দী জীবন শুরু। ৩৬ টি মামলা ১৪৩ বছরের জেল! ১৯৭৯ সালে আটক হওয়ার আগে ও পরে তার নামে সর্বমোট ৩৬ টি মামলা হয়। এর মধ্যে ১ টি অস্ত্র মামলা, ১ টি ডাকাতি মামলা এবং অবশিষ্ট ৩৪ টি হত্যা মামলা। বিচারকার্যে দেরি হওয়ার কারণে সাজা ছাড়াই তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত ১৭ বছর হাজতি হিসেবে কারাগারে থাকেন। ১৯৯৫ সালে তার সাজা হয় ১৪৩ বছর!!

পরে ১০০ বছর জেল মাফ করে তাকে ৪৩ বছরের জন্য জেল দেওয়া হয়। শাহজাহানের জেল থেকে বের হওয়ার তারিখ তার জেল কার্ডের ওপর লেখা আছে “ডেট অব রিলিজ ২০৩৫”। তিনি যখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে বসে তার রিলিজ ডেট আমাদের দেখালেন তখন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কার্ডের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

কারণ তার রিলিজ ডেটে বয়স হবে ৮৫ বছর। ততদিনে তিনি বাঁচবেন তো? তখন মুক্ত আকাশের দিকে তাকিয়ে তার জীবনের কী কোন অর্থ খুঁজতে পারবেন? জল্লাদ হিসেবে আত্ম-প্রকাশ জীবনের সোনালী সময় গুলো তাকে এখানেই কাটাতে হবে। তিনি ভাবলেন জল্লাদ হিসেবে সময় দিলে তার সাজা কিছু দিনের জন্য হলেও কম হবে। তাই নিজেকে অন্যভাবে প্রস্তুত করার জন্য জেল সুপারের কাছে জল্লাদের খাতায় নাম লেখানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রথম ১৯৮৯ সালে তিনি সহযোগী জল্লাদ হিসেবে গফরগাঁওয়ের নূরুল ইসলামকে ফাঁসি দিয়ে তার জল্লাদ জীবনের সূচনা করেন। এটাই তার জীবনের প্রথম কারাগারে কাউকে ফাঁসি দেওয়া।

তার যোগ্যতা দেখে ৮ বছর পর ১৯৯৭ সালে কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রধান জল্লাদের আসন প্রদান করেন। প্রধান জল্লাদ হওয়ার পর আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামী হাসানকে প্রথম ফাঁসি দেন। তিনি জানান একটি ফাঁসি দিতে প্রধান জল্লাদের সাথে ৬ জন সহযোগী লাগে এবং ফাঁসির রায় কার্যকর করলে প্রত্যেক জল্লাদের ২ মাস ৪ দিন করে কারাদণ্ড মওকুফ করা হয়। এছাড়া কারাগারে যারা জল্লাদ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শাহজাহান তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। উল্লেখ্য, বিশেষ দিনে কারা কর্তৃপক্ষ মিডিয়াকে দেখানোর জন্য বলে থাকেন এই দিনে একশত থেকে প্রায় এক হাজার বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

আসলে যারা দীর্ঘদিন ধরে কারা ভোগ করছে বা বৃদ্ধ হয়ে গেছেন তাদেরকে মুক্তি দেওয়ার কথা থাকলেও মূলত, রাজনৈতিক বিবেচনায় বন্দী মুক্তি দেওয়া হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে যাদের আর মাত্র ২/১ দিন বা এক সপ্তাহ কারাভোগের দিন বাকী আছে তাদেরকে মুক্তি দিয়ে অনেকে মহৎ মানুষের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করে থাকেন!! তার দেওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য ফাঁসি ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তিনি সর্বমোট ৪৫ টি ফাঁসি দিয়েছেন। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবথেকে বেশি ফাঁসি দেওয়ার রেকর্ড। তার দেওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য ফাঁসিগুলো মধ্যে সর্বশেষ ১০ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে দিবা গত রাতে ১২ টা ১ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করেন তিনি।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হচ্ছে – ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে শহীদ বুদ্ধিজীবী কন্যা শারমীন রীমা হত্যা মামলার আসামী খুকু মুনিরকে, ১৯৯৭ সালে বহুল আলোচিত ডেইজি হত্যা মামলার আসামী হাসানকে, ২০০৪ সালের ১০ মে খুলনা জেলা কারাগারে এরশাদ শিকদারকে, ২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর রংপুর জেলা কারাগারে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আসামী এএসআই মইনুল হক ও আবদুস সাত্তারকে, ২০০৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর দিনাজপুরে ইয়াসমিন হত্যা মামলার আরেক আসামী পিকআপ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মণকে, ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ কাশিমপুর ও৯ ময়মনসিংহে জঙ্গি নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই,

আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ইফতেখার মামুনকে, ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মুত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি বজলুল হুদা, আর্টিলারি মুহিউদ্দিন, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও ল্যান্সার মহিউদ্দিন আহমেদকে। শাহজাহান যখন কাউকে ফাঁসি দেন তখন পত্র-পত্রিকায় তাকে নিয়ে অনেক লেখা-লেখি হয়। তিনি যথা সম্ভব কারাগারে বসেই ওই সব পত্রিকাগুলোর কপি সংগ্রহ করেন।

পরিবারের সাথে শাহজাহানের সম্পর্ক শাহজাহান বাম রাজনীতি করতো বলে তার বাবা তাকে খারাপ চোখে দেখতেন। জীবনের সোনালী মুহুর্তে যখন তিনি কারাগারে প্রবেশ করেন তারপর থেকে তার বাবার সাথে আর কোন দিন যোগাযোগ হয়নি। মা বেচে থাকা অবস্থায় নিয়মিত দেখতে আসলেও বাবা কোন দিন জেল গেটে তাকে দেখতে আসেননি। এমনকি বাবার মৃত্যুর ২ মাস পর খবর পান তার বাবা আর বেচে নেই। বেচে আছেন তিন বোন। তারা থাকেন বাবার রেখে যাওয়া ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের ১১২ নম্বর বাড়ীতে। এখানে শাহজাহানদের ৬ কাঠা জমি আছে। তিনি অভিযোগ করেন বলেন, সব জমি বোনেরা নিয়ে নিয়েছে।

এই বোনেরাও তাকে ১০/১৫ বছর আগে একবার দেখতে এসেছিলো। তারপর আর কোন খবর নেই। তিনি জানান সর্বশেষ তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১০ সালে একদিন তার বোনের ছেলে দেখতে এসেছিলো। এই তিন বছরে তারাও আর খবর নেয়নি। জেলখানায় কেমন চলছে তার দিন যাপন? জেলখানায় তিনি জল্লাদ শাহজাহান নামেই খ্যাত। এমনকি তার জগ-বালতি-প্লেটের ওপরেও লেখা জল্লাদ। হাজতীরা কয়েদী হয়ে গেলে কারাগারে তাদের মূল্যায়ন একটু বেশিই থাকে। তাই তারও এখানে মূল্যায়ন বেশি। অন্যদের মতো তিনিও এখানে নতুন হাজতীদের থাকা, খাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করে থাকেন।

বিনিময়ে কিছু টাকা পান এবং তা দিয়ে এখানে তিনি একটু আরাম আয়েশে থাকতে পারেন। এখন তার দায়িত্বে প্রায় ২২ জন লোক থাকে। তার মধ্যে ৫ জনকে ফ্রী খাওয়ান এবং বাকীরা নতুন হাজতী আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকে বলে তারা টাকা দিয়ে থাকেন। নিয়ম অনুসারে তার এই টাকা সিট বিক্রেতা, সুবেদার, জমাদার, জেলার থেকে শুরু করে জেল সুপার পর্যন্ত ভাগ পান। তাদের ভাগ দেওয়ার পর যা বাঁচে তা দিয়ে চৌকা থেকে ভালো কিছু সবজি কিনে তাদেরকে খাওয়ান। সপ্তাহে একদিন পোলাও গোস্ত খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। বর্তমান তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মেঘনা-২ ভবনে সিআইডির দায়িত্বে আছেন।

সপ্তাহে একদিন করে দায়িত্ব পরিবর্তন করার নিয়ম থাকলেও তিনি বিশেষ অনুরোধে একটি দায়িত্ব পালন করেই দিন যাপন করেন। ভোর ছয়টার আগে ফাইলে অংশগ্রহণ করার জন্য অন্য সবার মতো তিনিও ঘুম থেকে উঠে যান। বাইরে থেকে ফ্রেশ হয়ে রুমে এসে সকালের নাস্তা করেন। দুপুর ১২ টায় ‘বারো গুনতি’র পর লাঞ্চ দেওয়া হয়। শাহজাহান তার সংসারের ২২ জন লোক নিয়ে বসেন। একে একে সবাইকে নিজ হাতে খাবার বেড়ে দেওয়ার পর তিনি খাবার খান। দুপুরের পরে কারা কর্তৃপক্ষের কোন কাজ থাকলে তিনি তা করেন বা নিজের মতো করে ঘুরে বেড়ান। বিকেলে পাচটার আগে সবাইকে ঘরে ফিরতে হয় তখন তিনি তার কক্ষে চলে আসেন। সন্ধার নামাজের পর রাতের খাওয়ার দেওয়া হয়। তখন তিনি আবার সবাইকে খাওয়ানোর পর নিজে খান।

খাওয়া শেষ হলে রাতের বিছানা ঠিক করে সবার ঘুমানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। তার রুমে ৬২ জন মানুষের থাকার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৭০ জন লোক থাকে। তাদের প্রত্যেকের জন্য তার দোড়ঝাপ একটু বেশিই করতে হয়। এতো কিছুর মধ্যেও তার রুম সব সময়ের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেন। সম্ভব হলে রাতে বিটিভির খবর দেখেন তা না হলে তার বহু পুরানো একটি রেডিওতে নিয়মিত রাত সাড়ে দশটার বিবিসির খবর শোনেন। রাতে ঘুম না আসলে দাবা অথবা তাশ খেলে সময় কাটান। কখনও কখনও মধ্য রাতে এফএম রেডিওতে প্রচারিত গান শোনেন। এভাবেই একসময় তিনি ঘুমিয়ে পরেন।

পরের দিন ভোরে আবারও ঘুম থেকে উঠে আগের রুটিনে তার নিয়মিত পথ চলা। বাংলাদেশের জল্লাদ ও ফাঁসির পরিসংখ্যান অভিযুক্ত কয়েদীদের মৃত্যুদণ্ড ফাঁসিতে যেসব দেশে কার্যকর করা হয় তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ১৯৭১ সালে এ দেশ পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। তারপর থেকে ৪ শতাধিক মানুষকে এদেশে ফাঁসি দেয়া হয়েছে এবং সারা দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ১০১৬ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদী বন্দী আছেন। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন ১০৬ জন। কেন্দ্রীয় কারাগার ছাড়াও দেশের আরও ১৪টি কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ আছে। ফাঁসির দেওয়ার জন্য জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে ম্যানিলা থেকে ১০ হাজার ফাঁসির রশি আমদানি করা হয় বাংলাদেশে। এরপর আর কোনো রশি আনা হয়নি।

ওই রশি দিয়েই মূলতঃ সবাইকে ফাঁসি দেওয়া হয়। বাংলাদেশের ৬৭টি জেলে রয়েছে প্রায় ৭৫০০০ বন্দি। স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতার চেয়ে এ সংখ্যা তিন গুণ বেশি। এসব ফাঁসি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে কয়েক ডজন জল্লাদ আছেন। তার মধ্যে প্রসিদ্ধ (যারা নূন্যতম পাঁচজন আসামীকে ফাঁসি দিয়েছেন) জল্লাদরা হচ্ছেন- নরসিংদীর শাহজাহান ভূঁইয়া, গাজীপুরের হাফিজ উদ্দিন, কক্সবাজারের বাবুল মিয়া (২০১২ সালে তিনি মুক্তি পেয়েছেন), সাভারের কালু মিয়া, গোপালগঞ্জের শেখ মো. কামরুজ্জামান ফারুক ও শেখ সানোয়ার, ফরিদপুরের আবুল, জয়নাল বেপারী ও মোয়াজ্জেম হোসেন, ঢাকার মোহাম্মদ মাসুম, তানভীর হাসান রাজু ও মনির হোসেন, নেত্রকোনার মোহাম্মদ বাবুল।

জল্লাদ শাহজাহানের কিছু অভিযোগ ও কিছু অনুরোধ প্রধান এই জল্লাদ অভিযোগ করেন, কারাগারে বন্দীদের জন্য সরকার থেকে যে খাবার দেওয়ার কথা তা সাধারণত দেওয়া হয় না। মোটা চালের ভাতে প্রায়ই ইটের খোয়া পাওয়া যায় যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী না। ২৫০০ শত বন্দীদের ধারণ ক্ষমতার কারাগারে প্রায় দশ হাজার বন্দীদের রাখা হয়েছে তাদের জন্য নতুন কোন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে না। যার কারণে বন্দীদের এখানে কীভাবে রাখা হয় তা সহজেই অনুমান করা যায়।

দশ হাজার লোকের জন্য কারাগারে পানি সাপ্লাই দিতে পুরনো দুটি পানি তোলার মেশিন রয়েছে। যা অধিকাংশ সময় নষ্ট থাকে। তাই পানির অভাবে এখানে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়। এখানে প্রতিটা ফোটা পানি হিসেব করে খরচ করতে হয়। চোখে না দেখলে এখানকার অমানসিক জীবনের বর্ণনা কেউই অনুধাবন করতে পারবে না। দুর্বিসহ এই জীবনে প্রতিটা মুহুর্তে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। যার খবর মুক্ত আকাশের পাখিরা ছাড়া আর কেউ জানেন না। তিনি আরো বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ছিল আমি তাদেরকে ফাঁসি দিয়েছি। আমি আশা করে ছিলাম শেখের মেয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী সে আমার দিকে একটু সুনজর দিবে।

কিন্তু কে রাখে কার খবর? আমার কথা কেউ বিবেচনা করলো না। নেলসন ম্যান্ডেলা একসময় পৃথিবীর সব থেকে বেশি সময় জেলখানায় (২৭ বছর) থেকে বিশ্ব রেকর্ড করেছিলেন। আর এখন আমি জীবনের ৩৪টি বছর কারাগারে কাটিয়ে দিয়ে তার রেকর্ড ভেঙ্গে দিলাম। এখন আমার অপরাধ করার ইচ্ছা বা ক্ষমতা কোনটাই নেই। আমাকে তিন দশকের অধিক সময় ধরে কারাগারে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে যা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মানবিক দিক বিবেচনা করলে একটি মানুষ জীবনের শেষ বয়সে এসে আশার আলো দেখতে পারেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো যেন তার সামান্যতম সহানুভূতি দেখান সে ব্যাপারে তিনি বিশেষ ভাবে অনুরোধ করেন।-এই বাংলা

লন্ডনের রাস্তায় সুবহানাল্লাহ লেখা বাস



রমজান মাসে সিরিয়া যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু করেছে একটি ব্রিটিশ মুসলিম দাতব্য সংস্থা। ওই প্রচারণার অংশ হিসেবেই তারা সেখানকার যাত্রীবাহী বড় বড় বাসগুলোতে সুবহানাল্লাহসহ (সকল পবিত্রতা আল্লাহর) গুণবাচক বিভিন্ন আরবি শব্দ লেখা স্টিকার সেঁটে দেবে বলে দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকাটি জানিয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, অভিনব এই প্রচারণার মাধ্যমে তারা মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের কাছ থেকে মোটা অংকের তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন।

দেশটিতে রমজান শুরু হচ্ছে ৭ জুন। এই মাসেই মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা তাদের আয়ের আড়াই ভাগ জাকাত হিসেবে গরীব দুঃখীদের জন্য দান করে থাকেন। ইসলাম ধর্মের পাঁচ স্তম্ভের অন্যতম হচ্ছে জাকাত।মুসলিম ওই দাতব্য সংস্থার ধারণা, তাদের এই উদ্যোগ সিরিয়া যুদ্ধের কারণে ভয়াবহভাবে মানবিক বিপর্যয়ের শিকার লাখ লাখ মানুষ ইতিবাচক প্রচারণার সুফল পাবে।

শুধু তাই নয়, এটি ব্রিটেনের মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবকদের চরমপন্থিদের সঙ্গে যোগ দেয়া থেকেও বিরত রাখবে।যুক্তরাজ্যে এই তহবিল সংগ্রাহক কর্মকাণ্ডের পরিচালক ইমরান মাদ্দেন বলেছেন, ‘এক অর্থে আপনি একে পরিস্থিতি পরিবর্তনের প্রচারণা হিসেবেও উল্লেখ করতে পারেন। কারণ আমরা চাইছি এই দেশে মুসলিম সম্প্রদায় সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে তা বদলাতে।’রমজানজুড়ে তারা ১০ কোটি পাউন্ড (১৪ কোটি ৪২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০শ মার্কিন ডলার) সংগ্রহ করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন।

আগামী ২৩ মে থেকে সুবহানাল্লাহ লেখা ৬৪০টি বাস যুক্তরাজ্য জুড়ে ঘুরে বেড়াবে। সম্প্রতি পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সাদিক খান লন্ডনের প্রথম মুসলিম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের উৎসাহ উদ্দীপনায় জোয়ার এসেছে। ধারণা করা হয়ে থাকে, লন্ডনের মোট জনসখ্যার শতকরা ৫০ ভাগই মুসলিম। তবে ওই শহরে সাধারণতঃ কোনো যানবাহনে এ ধরনের প্রচারণা চোখে পড়ে না। কেননা সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য যানবাহন বা স্থাপনায় এ ধরনের পোস্টার বা স্টিকার লাগানো আইনত নিষিদ্ধ।তবে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর কথা ভিন্ন।

ধর্ম প্রচারের জন্য তারা এ জাতীয় প্রচারণা চালাতেই পারেন, যতক্ষণ না সেটা ‘গুরুতর অপরাধ’ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এখানে প্রসঙ্গক্রমে খ্রিস্টানদের একটি ‘শুদ্ধি’ প্রচারণার কথা উল্লেখ করা যায়। ২০১২ সালে সমকামীদের ‘প্রভাবিত’ করার অভিযোগ ওঠার পর খ্রিস্টানদের ওই দাতব্য প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর আগে ২০০৯ সালে ব্রিটিশ হিউমেনিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটি নাস্তিক্যবাদী প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

তারা তখন দেশ জুড়ে ‘কোনো ঈশ্বর নেই, তাই সকল দুশ্চিন্তা বাদ দিয়ে আনন্দের সঙ্গে বাঁচুন’ প্রচারণা শুরু করেছিল। কিন্তু ধর্মভীরু খ্রিস্টানদের কাছ থেকে অভিযোগ আসার পরই ওই সংস্থার প্রচারণায় বাধ সাধে প্রশাসন। এর জবাবে মাত্র এক মাস পরেই ‘ঈশ্বর আছে’ প্রচারণা শুরু করেছিল খ্রিস্টান ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো।তবে ব্রিটিশ মুসলিমদের এই তহবিল সংগ্রহ প্রচারণায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। তাই রমজান মাসজুড়ে লন্ডনসহ বড় বড় শহর দাপিয়ে বেড়াবে ‘সুবনাল্লাহ ’ লেখা বাসগুলো।

তিন বছর বয়সেই কোরআনের হাফেজ! (ভিডিও)



এ কথা আমরা সবাই জানি যে, কোরআন শরিফের আগে আরো অনেক আসমানি কিতাব-সহিফা নাজিল হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কোরআন শরিফ পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কোরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব। অতএব, কিয়ামত পর্যন্ত একে অবিকৃত ও সুসংরক্ষিত রাখা হবে।



এতে কোনো ধরনের বিকৃতি ঘটবে না, এখানে পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। এটা এ কারণে নিশ্চিত হয়েছে যে কোরআন শরিফ সংরক্ষণের দায়িত্ব খোদ আল্লাহতায়ালা নিজের দায়িত্বে রেখে দিয়েছেন। তিনি আমাদের মতো মানুষের মাধ্যমেই এর সংরক্ষণ করবেন এবং তা করছেনও।


প্রতিদিন হাজার হাজার মাসুম বাচ্চা কোরআন শরিফের হাফেজ হচ্ছে। গোটা দুনিয়ার মুদ্রিত সব কোরআন একসঙ্গে আগুনে পুড়িয়ে দিলেও লাখো হাফেজের কণ্ঠ থেকে অবিকৃত কোরআন শরিফের সুরেলা আওয়াজে মুখরিত হবে তামাম দুনিয়া। সত্যিই এটা এক বিরল বিষয়। এ ধরনের নজির অন্য কোনো গ্রন্থের ক্ষেত্রে কল্পনাও করা যায় না।


আল্লাহতায়ালা কর্তৃক কোরআন সংরক্ষণের এ ব্যবস্থাপনার নজির বিশ্ববাসী প্রায়ই দেখে। তেমনি এক অনন্য উদাহরণ আজারবাইজানের তিন বছর বয়সী ফুটফুটে মেয়ে ‘জাহরা হোসাইন’। এই বয়সেই সে পবিত্র কোরআনে কারিমে ৩৭টি সূরা মুখস্থ করে সেদেশের কনিষ্ঠ হাফেজ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।


আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে বসবাসরত কনিষ্ঠ এই কোরআনের হাফেজ সম্পর্কে তার মা বলেছেন, ‘গর্ভকালীন সময়ে আমি প্রতিনিয়ত পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করতাম এবং উচ্চস্বরে কোরআন তেলাওয়াত মনোযোগ সহকারে শুনতাম।’ জাহরার মা আরও বলেন, ‘জাহরার জন্মের পর তার ঘুমের সময়ে ঘুমপাড়ানি ছড়ার জায়গায় আমি পবিত্র কোরআনের ছোট ছোট সূরাগুলো পড়তাম। এভাবেই দিন কাটছিল।



কিন্তু এক সময় আমি বুঝতে পারলাম, জাহরা মাত্র এক বছর বয়সেই আমার সাথে কোরআনের আয়াতগুলো পুনরাবৃত্তি করছে। আর এর ফলে তার জন্য কোরআনের অন্যান্য আয়াত ও সূরাগুলো আমি পড়তে আমি আগ্রহী হই। এভাবেই তিন বছরের ফুটফুটে মেয়ে জাহরা কোনো শিক্ষকের নিকট প্রশিক্ষণ ছাড়া ৩৭টি সূলা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।’


জাহরার দাদা হাজী হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘জাহরার কোরআন মুখস্থ করার জন্য তার মা’র ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। কেননা, জাহরার জন্মের পূর্বে থেকেই তার মা সবসময় কোরআন তেলাওয়াত করত এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে দানকৃত জাহরার এ প্রতিভার জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
তিনি আরও বলেন, জাহরার জন্মের পর থেকে তার ঘুম পাড়ানোর জন্য কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে এবং সে খুব মনোযোগ সহকারে শুনতো। এক বছর বয়সে জাহরা একা একাই সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক এবং সূরা নাস বলত।


জাহরার দাদা এ সাফল্যকে মহান আল্লাহর দান হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এটা আল্লাহর করুণা যে, এক বছরের শিশু কোরআনের সূরা মুখস্থ করেছে। অথচ তার বয়সের অন্যান্য বাচ্চারা শুধুমাত্র ‘বাবা’ এবং ‘মা’ বলা শেখে। জাহরার বয়স যখন দু’বছর পূর্ণ হয় তখন সে কোরআনের ৮টি সূরা মুখস্থ করে এবং বর্তমানে তার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে এবং সে তাজবিদ সহকারে পবিত্র কোরআনের ৩৭টি সূরা মুখস্থ করতে সক্ষম হয়েছে।


মাছের গায়ে মহান আল্লাহ্ ও রাসুল স. এর নাম



সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাছের গায়ে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মাদ (সঃ)-এর নাম লেখা সংবলিত তিনটি মাছ ধরা পড়েছে।

সোমবার দুপুরে উপজেলার কাজিপুর মাদ্রাসা পুকুর থেকে জাল ফেলে মাছ ধরার সময় আল্লাহ-রাসুল (সা.) নাম লেখা তিনটি সিলভার কার্প মাছ ধরা পড়ে।
এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। মাছটি দেখতে বিভিন্ন গ্রাম হতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছে।

মাদ্রাসার হুজুর ক্বারী মো. সেরাজুল ইসলাম জানান, মদ্রাসার ছাত্রাবাসের ছাত্রদের খাওয়ানোর জন্য পুকুরটিতে জাল ফেলে মাছ ধরা হয়। এসময় তিনটি মাছে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মাদ (স:) লেখা দেখা যায়।

মাছ তিনটির ওজন আনুমানিক দেড় কেজি। এদিকে, আল্লাহ-রাসুলের নাম লেখা মাছ তিনটি দেখতে স্থানীয় জনতা ভীড় জমাতে শুরু করেছেন।

হোটেল আর মোটেলের পার্থক্য কী



 অনেকেই জানে না হোটেল আর মোটেলের পার্থক্য। এ নিয়ে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পরেন। চলুন জেনে নেই হোটেল এবং মোটেলের পার্থক্য।

১। হোটেল বহুতলবিশিষ্ট বিশ্রামখানা। হোটেলের দরজা রুমের ভেতরের দিকে থাকে। প্রধানত পর্যটনকেন্দ্র বা শহরের ভেতরেই হোটেলের অবস্থান। অন্যদিকে মোটেল সাধারণত ১-২ তলা হয়। মোটেল কক্ষের দরজা বাইরের দিকে থাকে। ব্যালকনি বা বেড়া দিয়ে ঘেরা থাকে চারপাশ। মোটেল সাধারণত মহাসড়ক, শহর কিংবা গ্রামের পাশে হয়ে থাকে। যেখানে একজন ভ্রমণকারী রাত কাটাতে আশ্রয় নেন।

২। প্রধান পার্থক্য হলো ঘরের দরজার বৈপরীত্য। হোটেলের প্রতিটি ঘরের দরজা হোটেলের অভ্যন্তরীণ পথের সাথে যুক্ত থাকে আর মোটেলের ঘরের দরজাগুলো সরাসরি বাইরের পার্কিং লটের দিকে হয়ে থাকে। এতে হোটেল ও মোটেলের পার্থক্য দৃশ্যগত হয়।

৩। হোটেল বলতে সাধারণত একটি স্থান বোঝায় যেখানে পথিকেরা খাবারের মূল্য পরিশোধ করে স্বল্প সময়ের জন্য অবস্থান করেন। কিন্তু মোটেল হলো একরকম ব্যবস্থাপনা, যেখানে অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে গাড়ীতে ভ্রমণকারীরা অবস্থান করেন এবং কক্ষের কাছাকাছি জায়গায় গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা থাকে।

আপাত দৃষ্টিতে এগুলোই মূলত হোটেল ও মোটেলের পার্থক্য তবে কিছু আধুনিক হোটেল ও মোটেলে দৃষ্টিনন্দন ফোয়ারা, ইন্টারনেট কিংবা বিনোদনের ব্যাবস্থা থাকে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে জানা অজানা কিছু তথ্য!


১। সেনাবাহিনীতে কত ধরনের বিভাগ (কোর) রয়েছে ?

সেনাবাহিনীর বিভাগ বা কোর গুলোর নাম খুব সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করে নিচে দেয়া হল
ক। আর্মার্ড – ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া বাহিনী
খ। আর্টিলারি – কামান বা গোলন্দাজ বাহিনী
গ। সিগন্যালস – এরা ওয়্যারলেস, টেলিফোন, রাডার ইত্যাদির মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন ও রক্ষা করে
ঘ। ইঞ্জিনিয়ার্স – এরা যাবতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ ছাড়াও পদাতিক বাহিনীর কাজও করতে সক্ষম
ঙ। ইনফ্যান্ট্রি – পদাতিক বাহিনী
চ। আর্মি সার্ভিস কোর – এরা সেনাবাহিনীর ফ্রেশ এবং ড্রাই রেশন, গাড়ি, চলাচলের তেল ইত্যাদি সরবরাহ করে
ছ। এএমসি (আর্মি মেডিক্যাল কোর) – সেনাসদস্য ও তার পরিবারের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে
জ। অর্ডন্যান্স – যুদ্ধ ও শান্তিকালীন সময়ে ব্যাবহারের জন্য বিভিন্ন সাজ সরঞ্জাম,পোষাক,নিত্য ব্যাবহারের দ্রব্য সামগ্রী সরবরাহ করে
ঝ। ইএমই (ইলেক্ট্রিক্যাল এ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর) – বিভিন্ন ধরণের যন্ত্র তৈরি ও গাড়িসহ অন্যান্য বিভিন্ন যন্ত্র ও যন্ত্রাংশের মেইন্ট্যানেন্সের কাজ করে
ঞ। মিলিটারি পুলিশ – এরা সেনানিবাসের ভেতর পুলিশিং, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রন ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকে
ট। এইসি (আর্মি এডুকেশন কোর) – সেনাবাহিনীর বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করে
এছাড়াও আর্মি ডেন্টাল কোর, রিমাউন্ড ভেটেরেনারী এ্যান্ড ফার্ম কোর , ক্লারিক্যাল কোর ইত্যাদি আরও কিছু ছোটখাট কোর বা বিভাগ রয়েছে ।

২। সেনাবাহিনীর পদবীসমুহ কি ?

সেনাবাহিনীতে মুলতঃ তিনটি ক্যাটাগরি রয়েছে ।
ক। অফিসার
খ। জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও)
গ। নন কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) ও অন্যান্য পদবী

৩। সৈনিক হিসেবে যোগ দিতে কি যোগ্যতা লাগে এবং কি কি পরীক্ষা দিতে হয় ?

এসএসসি পাশ করে রিক্রুটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়া যায়। প্রায়ই বিভিন্ন স্টেডিয়ামে দেখা যায় এ ধরণের রিক্রুটিং। এক দিনের মধ্যেই লিখিত, মৌখিক এবং মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেরকে এই পদে যোগ দিতে ডাকা হয়। এরা সফলভাবে ছয় মাস ট্রেনিং সম্পন্ন করতে পারলেই কেবল সৈনিক হিসেবে চাকরি প্রাপ্ত হয়। এদের ট্রেনিং কোর, আর্মস বা সার্ভিস ভেদে বিভিন্ন স্থানে হয় ।

৪। সৈনিক পদে ভর্তি হলে কোন পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়া যায়? ধাপগুলো কি কি ?

একজন সৈনিক সফলতার সাথে চাকরি করলে অনারারী ক্যাপ্টেন পর্যন্ত হতে পারে। ধাপগুলো হচ্ছেঃ
ক। সৈনিক
খ। ল্যান্স কর্পোরাল
গ। কর্পোরাল
ঘ। সার্জেন্ট
ঙ। ওয়ারেন্ট অফিসার
চ। সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার
ছ। মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার
জ। অনারারী লেফটেন্যান্ট
ঝ। অনারারী ক্যাপ্টেন

৫। এনসিও এবং জেসিও কারা ?
এনসিও হচ্ছে নন কমিশন্ড অফিসার এবং জেসিও বা জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার, যেখানে সৈনিকদের মধ্য থেকে পদোন্নতি হয়ে ধাপে ধাপে এই পদগুলো প্রাপ্ত হয়। উপরের প্যারার কর্পোরাল ও সার্জেন্ট র‍্যাঙ্ক দুটি এনসিও এবং ওয়ারেন্ট অফিসার এর পরবর্তী পদগুলো জেসিও হিসেবে বিবেচিত। উল্লেখ্য, জেসিওরা দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারী কর্মচারী।
এছাড়াও কোন সৈনিক যদি অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শনে সক্ষম হয় সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তাকে অফিসার হিসেবে জিএল কমিশনও প্রদান করা হয়।

৬। সেনা বাহিনীতে অফিসারদের পদবীগুলো কি কি ?
সেনাবাহিনীতে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে জেনারেল পর্যন্ত মোট ১০ টি পদ আছে।
১। সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
২। লেফটেন্যান্ট
৩। ক্যাপ্টেন
৪। মেজর
৫। লেফটেন্যান্ট কর্নেল
৬। কর্নেল
৭। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল
৮। মেজর জেনারেল
৯। লেফটেন্যান্ট জেনারেল
১০। জেনারেল

৭। অফিসার হতে হলে কি যোগ্যতা থাকতে হয় ?
একজন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট সেনা বাহিনীর সবচে জুনিওর র‍্যাঙ্কের কর্মকর্তা। এজন্য তাকে মিলিটারি একাডেমীতে দুই বছরের প্রশিক্ষণ সফলতার সাথে শেষ করার পাশাপাশি সফলতার সাথে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল হতে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করতে হয়। তবেই তার নাম কমিশন্ড অফিসার হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়।
সাধারণত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হতে লেফটেন্যান্ট হতে এক বছর সময় লাগে। যোগ্যতা অর্জন ও পদোন্নতি পরীক্ষায় পাস সাপেক্ষে তিন বছর চাকরি সম্পন্ন হলে ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি হয়। একইভাবে সাধারণত যোগ্যতা অর্জন ও পদোন্নতি পরীক্ষায় পাস সাপেক্ষে আট বছর চাকরি সম্পন্ন হলে মেজর পদে পদোন্নতি হয়। লেফট্যানেন্ট কর্নেল এবং পরবর্তী পদবী সমূহ মেজর জেনারেল এবং তদূর্ধ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত পদোন্নতি পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। অর্থাৎ মেজর থেকে লেফট্যানেন্ট কর্নেল এবং তদূর্ধ পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন করা ছাড়াও উক্ত বোর্ডের অনুমোদন লাগবে।

৮। কারা কিভাবে সেনা অফিসার হয় ? এদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কি ? আর কি কি যোগ্যতা লাগে ?
মুলত এইচএসসি পাশের পর একজন সেনা কর্মকর্তা হবার জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে আবেদন করতে পারেন। এখানে উল্লেখ্য যে বাংলাদেশের সেনা অফিসারদের মধ্যে গড়ে ৭০-৭৫ ভাগই আসে ক্যাডেট কলেজ থেকে। কিন্তু এর মানে এই না যে ক্যাডেট কলেজে পড়লেই সেনা অফিসার হতে পারবে। বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজ গুলো থেকে প্রতি বছর আনুমানিক কম বেশী ৬০০ (১২ টি ক্যাডেট কলেজে প্রতি ব্যাচে ৫০ জন করে) জন যদি পাশ করে বের হয়, এর মধ্যে আর্মিতে সুযোগ পায় কিন্ত গড়ে মাত্র ৮০- ১০০ জন। কারণ প্রতি ব্যাচে অফিসার হিসেবে বাকি ৫০০ জন কিন্তু অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। আমার জানা মতে, সকল ক্যাডেটদের জন্যই সেনা বাহিনীতে যোগদানের পরীক্ষায় অংশ নেয়া বাধ্যতামূলক যদিও একবারে ১০০ ভাগ ক্যাডেট সেনা অফিসার হতে চায় এরকম বলা যাবে না।
এই বিষয়ে নিশ্চয়ই কারো দ্বিমত নেই যে ক্লাস সেভেনে লক্ষ লক্ষ মেধাবী কিশোরের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে যাওয়া কিছু ভাগ্যবান এবং অসাধারণ মেধাবী ছেলেই পড়ার সুযোগ পায় ক্যাডেট কলেজগুলোতে (প্রতি কলেজে মাত্র ৫০ জন করে)। এদের মধ্যেও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গড়ে প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ মাত্র সুযোগ পায় সেনা অফিসার হওয়ার।
এছাড়া বাকি ২৫-৩০ ভাগ অফিসার আসে দেশের অন্যান্য বেসামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যার মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছে নটরডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, রাজউক কলেজ, বি এ এফ শাহীন কলেজ, আদমজী ক্যান্টঃ কলেজ সহ অন্যান্য সরকারী ও বেসরকারী কলেজ। ক্যাডেট কলেজের পরই সবচে বেশি অফিসার সম্ভবত নটরডেম কলেজের। এছাড়াও দেশের অন্যান্য কলেজগুলো থেকেও সেনা অফিসার হিসেবে মিলিটারি একাডেমি তে যোগ দেবার সু্যোগ পায়। কাজেই সেনা অফিসার হতে গেলে এই সব মেধাবী ছেলে মেয়েদের সাথে প্রতিযোগিতায় নামতে হবে আপনাকে। এখানে বুয়েট, মেডিক্যাল বা অন্যান্য ভর্তি পরীক্ষার সাথে পার্থক্য এটাই যে শুধুমাত্র মেধার বিচারে সেনা অফিসার নির্বাচন করা হয় না। মেধা অবশ্যই অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর কিন্তু এর সাথে আরও অনেক বিষয় বিবেচনা করা হয়।







সেনা অফিসার হতে বি এম এ তে ক্যাডেট হিসেবে সুযোগ পেতে হলে কি কি পরীক্ষা দিতে হয় ?

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে অফিসার হওয়ার জন্য ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিতে যে কয়টি পরীক্ষা দিতে হয় তা হচ্ছেঃ

ক। প্রাথমিক মেডিক্যাল
খ। প্রাথমিক ভাইভা
গ। লিখিত পরীক্ষা
ঘ। আইএসএসবি বা চারদিন ব্যাপী আই কিউ, মনস্তাত্তিক, ভাইভা, নেতৃত্বের গুণাবলী, কমিউনিকেশন স্কিল, প্ল্যানিং,শারীরিক যোগ্যতা ইত্যাদির উপর পরীক্ষা।
ঙ। চুড়ান্ত মেডিক্যাল ও সাঁতার পরীক্ষা
চ। চুড়ান্ত ভাইভা

৯। পরীক্ষাগুলো কোন কোন বিষয়ের উপর হয় ? কোন পরীক্ষার পর কোন পরীক্ষা হয় ?

প্রথমেই হয় প্রাথমিক মেডিক্যাল এবং ভাইভা পরীক্ষা। অনেকের ধারণা খুব লম্বা না হলে আর্মি অফিসার হওয়া যায় না। কিন্তু সত্য হচ্ছে, অফিসারদের জন্য ন্যুনতম উচ্চতা ৫ ফুট চার ইঞ্চি। বয়স ১৮ হতে ২১। এছাড়াও ভাইভা পরীক্ষাতে পরীক্ষার্থীর বিশেষ করে ইংরেজীতে দক্ষতা ও কমিউনিকেশন স্কিল দেখা হয়।
এই প্রাথমিক মেডিক্যাল ও ভাইভা উত্তীর্ণ প্রার্থীদেরকে লিখিত পরীক্ষার জন্য ডাকা হয় যা ক্ষেত্র বিশেষে প্রাথমিক পরীক্ষার এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষা অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয় ভতি পরীক্ষার আদলে হয়। প্রতিটি লং কোর্সে যোগদানের জন্য গড়ে আনুমানিক বিশ থেকে তিরিশ হাজার পরীক্ষার্থী থাকলেও লিখিত পরীক্ষাতে এক-দেড় হাজারের বেশি উত্তীর্ণ হয় না। এই এক থেকে দেড় হাজার থেকে আবার গড়ে ৮০-৯০ জন চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন আইএসএসবির (আন্তঃ বাহিনী নির্বাচন পর্ষদের) চারদিন ব্যাপী পরীক্ষার মাধ্যমে।

Bangladeshi-Special-Operation-Forces

১০। বছরে কয়বার এই ভর্তি প্রক্রিয়া চলে ? মোট কয়জনকে ভর্তি করা হয় ?

বছরে দুইবার এই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নির্দিষ্ট কোন কোটা নেই এখানে যে কত জন ভর্তি করা হবে। যোগ্যতা সাপেক্ষে কোন ব্যাচে যেমন ১৮০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে তেমনি যোগ্য কাউকে না পাওয়ায় মাত্র ৪০ জনকে নির্বাচিত করার ইতিহাসও আছে। এখানে সংখ্যা পুরো করতে গিয়ে কখনও মানের সাথে সমঝোতা করা হয় না। এবং এইখানকার নির্বাচকরা সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারেন বলেই জানি। অনেক জেনারেলের ছেলে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে এরকম ঘটনা আছে ভুরি ভুরি। বাবার পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব, মামা চাচার টেলিফোন সব কিছুকে উপেক্ষা করে যাচ্ছে বলেই এই সিলেকশন পদ্ধতি নিয়ে কোন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বলে কখনও শুনিনি।

১১। নিরবাচনের ক্ষেত্রে মেধার পাশাপাশি আর কোন কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হয় ?

বুঝতেই পারছেন এতগুলো পরীক্ষায় পাস করতে হলে আপনার যোগ্যতার পাশাপাশি ধৈর্যও থাকতে হবে। অন্যান্য সকল অ্যাডমিশন টেস্টের (বুয়েট,মেডিক্যাল, বিশ্ববিদ্যালয়) মত ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার পরই সেনা বাহিনীতে আফিসার পদে ভর্তির জন্য আবেদন করা যায়। অন্যান্য প্রায় সব অ্যাডমিশন টেস্টে শুধু মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হলেও সেনাবাহিনী এক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম। এখানে মেধার পাশাপাশি তার মানসিকতা, নেতৃত্ব প্রদানের গুণাবলী, কমিউনিকেশন স্কিল, ইংরেজীতে দক্ষতা, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ইত্যাদি নানা বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়। ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড বলতে একজন গরীব কিন্তু সৎ স্কুল মাস্টারের ছেলেকে একজন ঘুষখোর আমলার ছেলের চেয়ে প্রেফার করা হয়। এছাড়া শারীরিক যোগ্যতার বিষয়টি তো আছেই।

১২। সেনা অফিসারদের কি পড়াশোনা করতে হয় ? নাকি শুধু পিটি প্যারেড করলেই চলে ?

এইচএসসি পাশের পর সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেও অফিসার হওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে মিলিটারি একাডেমীতে দু বছরের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইদানিং কালে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল এর) অধীনে গ্র্যাজুয়েশন সফলভাবে শেষ করা। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগে সরকারী গেজেটে তার নাম প্রকাশিত হবে না।

এর পরবর্তী সময়ে তাকে উচ্চতর পড়াশোনা এবং পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হয়। নিজের পেশাগত বিষয়ের উপর বাধ্যতামূলক চার পাচটি কোর্স ছাড়াও স্টাফ কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, এম আই এস টি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল সহ দেশে ও বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করতে হয় সেনা অফিসারদেরকে। ইঞ্জনিয়ার অফিসারদেরকে বাধ্যতামুলকভাবে সিভিল, ইলেক্ট্রিকাল এন্ড মেকানিক্যাল,কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে হয়।

অনেকে দুই বা ততোধিক বিষয়ের উপর পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। সেনাবাহিনীতে পি এইচ ডি করা অফিসারের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। কাজেই আমাদের মধ্যে প্রচলিত ধারণা যে এইচএসসি পাশ করেলেই অফিসার হওয়া যায় তা যে কতটা ভ্রান্ত তা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

এছাড়াও বাধ্যতামূলক যে সকল কোর্সে অংশগ্রহন করতে হয় তা হলঃ

ক। বেসিক কোর্স –
 কোর ভেদে সাধারনত ৪ মাস হতে ১০ মাস সময়সীমার হয়, সাধারণত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট/ লেফটেন্যান্ট অবস্থায় এই কোর্স করানো হয়। প্রতিটি অফিসারকেই নিজ নিজ প্রফেশনাল জ্ঞান প্রদান করাই এই কোর্সের উদ্দেশ্য।

খ। অস্ত্রের উপর কোর্স – 
সব অফিসারকেই অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ শার্প শুটার করে তোলার জন্য বি এম এ তে দুই বছর প্রচুর অনুশীলন ও এই বিষয়ে পড়াশোনা করতে হয়। অফিসার হবার পর পুনরায় লেফটেন্যান্ট অবস্থায় তিন মাস ব্যাপী একটি কোর্স করানো হয় যাতে আগের শেখা বিষয়গুলো তারা ঝালিয়ে নিতে পারে। সাধারণভাবে বলা যায় যে এই প্রশিক্ষণ গ্রহনের ফলে প্রতিটি অফিসারই সব ধরণের অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করে, এক একজন দক্ষ মার্কস ম্যান হয়ে ওঠে এবং সব ধরণের অস্ত্র চালনায় প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী হয়। সেনা অফিসারদের মধ্যে অনেক স্নাইপার ও রয়েছেন।

গ। কমান্ডো কোর্স – 
প্রায় তিন মাস সময়সীমার এই কোর্সটি প্রচন্ড কষ্টসাধ্য একটি কোর্স যা প্রত্যেক সেনা অফিসারকে বাধ্যতামূলক ভাবে করতে হয়। এই কোর্সে প্রতিটি অফিসারকে আমানুষিক কষ্টের মধ্যে রাখা হয়। এমনিতেই বি এম এর প্রশিক্ষণ প্রচন্ড কষ্টসাধ্য। অফিসার হবার এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এই কমান্ডো কোর্স করতে হয়। এই তিন মাসের কষ্ট এমনকি বিএমএ জীবনের দুই বছরের অমানুষিক কষ্ট কেও হার মানায়।

প্রায় প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৬ কিমি থেকে ৪০ কিমি পর্যন্ত দৌড়, অ্যাসল্ট কোর্স(বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম),টানা দৌড়ে উঁচু উঁচু ৭ টি পাহাড় অতিক্রম, আনআর্মড কম্ব্যাট ট্রেনিং (মার্শাল আর্টের সামরিক সংস্করন), ট্র্যাকিং, ম্যাপ অনুসরণ করে দুর্গম এলাকায় ডে মার্চ বা নাইট মার্চ,কমান্ডো কৌশল অনুসরন করে শত্রু এলাকার ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার অনুশীলন,খাবার ছাড়া দুর্গম এলাকায় বেঁচে থাকার সারভাইভাল ট্রেনিং, উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে র‍্যাপেলিং সহ অনেক দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ নেয়ার পাশাপাশি রণকৌশলের ওপর পড়াশোনা করতে হয় এ সময়।

এছাড়া নির্বাচিত অফিসাররা আরও ৬ মাস ব্যাপী কমান্ডো প্রশিক্ষণ নেয় যেখানে উপরে উল্লেখিত প্রশিক্ষণ ছাড়াও আরও অনেক দুঃসাহসিক প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। প্যারাশুট নিয়ে ফ্রী ফল, জাম্প মাস্টার, রিগ্যার ইত্যাদি কমান্ডো অনুশীলনের অন্তর্গত। এ ধরণের প্রশিক্ষনে প্রশিক্ষিত দের জাতিসংঘে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কমান্ডোদের মটো হচ্ছে do or die . এই প্রশিক্ষণ চলাকালে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। ক্যাজুয়াল্টি তো অহরহ ঘটে। প্রতিটি সেনা অফিসারই এক একজন বেসিক কমান্ডো।

ঘ। জুনিয়র স্টাফ কোর্স – 

এ কোর্স টিও বাধ্যতামূলক ভাবে সকল ক্যাপ্টেন র‍্যাঙ্কের অফিসারদের করতে হয়। এটি চার মাস ব্যাপী এবং সম্পূর্ণ পড়ালেখার একটি কোর্স। এখানে রণকৌশল বা ট্যাকটিকস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেয়া হয়।

উপরের সবগুলো কোর্সই মানের দিক থেকে বিশ্ব মানের এবং প্রতিটি কোর্সেই উল্লেখ যোগ্য সংখ্যক বিদেশী অফিসার যোগদান করে। শুধু উপমহাদেশের অফিসাররা নয়, মধ্যপ্রাচ্যের, আফ্রিকা, ইউরোপ মহাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ক্যাপ্টেন এবং মেজর র‍্যাঙ্কের অফিসাররা এইসব সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে বাংলাদেশে আসে এবং আমাদের প্রশক্ষনের মানের ভুয়সী প্রশংসা করে থাকেন। এমনকি আধুনিক বিশ্বে পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত ইউ এস আর্মি এবং মেরিন অফিসার এবং সেনারা এই ধরণের প্রশিক্ষনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সাথে প্রতি বছরই যৌথ সামরিক অভিযান চালায় যা ‘ব্যালান্স বাফেলো’ এক্সারসাইজ নামে পরিচিত।

যারা বাংলাদেশ আর্মির অফিসারদের প্রশিক্ষণের স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে সন্দিহান,তাদের জন্য আশা করি উপরের তথ্যগুলো সহায়ক হবে।

এছাড়া আরও অনেক কোর্স আছে যেগুলো চাকরির সিনিয়রিটি অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে অনেকগুলো কোর্স দীর্ঘ সময় ব্যাপী পরিচালিত হয় যেগুলো সফল ভাবে সম্পন্ন করলে প্রতিটির জন্য আলাদা ভাবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল হতে পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

এছাড়া আরও কয়েকটি কোর্স হচ্ছে –
PSC – মেজর দের জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ কোর্স হচ্ছে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কোর্স। এটি এক বছর ব্যাপী একটি কোর্স, যেটি সফল ভাবে সম্পন্ন করলে অফিসাররা নামের শেষে psc লেখেন।
NDC – ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে এই কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। এখানে আর্মির কর্নেল পদবীর অফিসার সহ বেসামরিক প্রশাসনের নির্বাচিত কিছু জয়েন্ট সেক্রেটারী,পুলিশের ডি আই জিরা একসাথে এই কোর্স করেন।
NDU – এটিও কর্নেল এবং তদূর্ধ পদবীদের জন্য একটি কোর্স।
AFWC – armed forces war course , এটি লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং তদূর্ধ র‍্যাঙ্কের অফিসারদের জন্য।

উপরোক্ত চারটি কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা তাদের নামের শেষে সংক্ষেপে কোর্সের নামগুলি উল্লেখ করেন। এই চারটি কোর্সেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশী সিনিয়র অফিসাররা যোগদান করেন।

আরও অসংখ্য কোর্স আছে আর্মির বিভিন্ন কোরের অফিসারদেরকে ওই কোরের ওপর একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য। যেমন ইনফ্যান্ট্রি, আর্টিলারি, আর্মার্ড ইত্যাদি কোরের অফিসারদের দেশে এবং পরে চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, ভারত ইত্যাদি দেশ থেকে এক বছরের জন্য কোর্স করিয়ে আনা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স , ইএমই, অর্ডন্যান্স অফিসাররা বুয়েট, এমআইএসটি সহ দেশে বিদেশে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করে। অর্থাৎ প্রতিটি কোরের অফিসারকেই তার নিজ নিজ পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এবং নিজের পেশায় একজন বিশেষজ্ঞ হবার জন্য প্রতিনিয়ত দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে গিয়ে পড়াশোনা করতে হয়।

এভাবে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট থেকে শুরু করে জেনারেল পর্যন্ত প্রতিনিয়ত একজন অফিসারকে প্রচন্ড পড়াশোনার মধ্যে থাকতে হয়। কেউ পড়াশোনার বিষয়ে সিরিয়াস না হলে তার ক্যারিয়ার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং পদোন্নতিও একেবারেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এভাবে প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ ও পড়ালেখার ফলে একজন অফিসারের কর্মদক্ষতা বাড়তে থাকে এবং তার সিনিয়রিটির সাথে সাথে পেশাগত উৎকর্ষ লাভ করে।

যারা পড়াশোনায় ফাঁকি দেয়ার ইচ্ছায় আর্মিতে অফিসার হিসেবে জয়েন করতে চান, তারা কিন্তু নিশ্চিত ধরা খাবেন।
1358590975

১৩। সেনা অফিসারদের কি সৈনিকদের সাথে নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হয় ?

গুটিকয়েক হেডকোয়ার্টারে কর্মরত অফিসার ছাড়া ইউনিটে কর্মরত সকল সেনা অফিসারদের (লেফটেন্যান্ট কর্নেল পর্যন্ত) সকালে পিটি এবং বিকালে গেমস সহ সব ধরণের প্রশিক্ষনে সেনাসদস্যদের সাথে অংশগ্রহন করা বাধ্যতামূলক। এজন্যই অন্য যে কোন বাহিনীর থেকে সেনাবাহিনীতে সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে কমরেডশীপ বেশি, কারণ তারা এক সাথে কষ্ট করে।

(এখানে খানিকটা অপ্রাসঙ্গিক হলেও কমরেড শীপের অসংখ্য উদাহরণের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর সাথে মুখোমুখি লড়াইয়ে শহিদ লেফটেন্যান্ট মুশফিক যিনি মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের একমাত্র বীর উত্তম, তার কথা বলা যায়, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শান্তি বাহিনীর হাত থেকে তার সাথে থাকা সৈনিকদেরকে বাঁচানোর জন্য মরণপন লড়ে গেছেন। আজও অনেক সেনা তার কথা বলতে গিয়ে চোখের জলে বুক ভাসায় )।

শুধু তাই না একজন অফিসারকে এছাড়া প্রতি বছর দুইবার সব অফিসারকেই শারীরিক যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয়। এই পরীক্ষার অনেকগুলো আইটেমের মধ্যে শুধু দুইটি আইটেমের কথা বলি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৩ কিলোমিটার ও ১৬ কিলোমিটার দৌড়। বুঝতেই পারছেন, ফিটনেস না থাকলে আপনার আমার পক্ষে এইগুলো করা সম্ভব না। এছাড়াও প্রতি বছর এদের ওজন নেয়া হয়।

শারীরিক যোগ্যতা আর ওজন নিয়ন্ত্রনে না রাখতে পারলে পদোন্নতি চিরতরে বন্ধ সহ বিভিন্ন শাস্তিমুলক ব্যাবস্থা নেয়া হয়। কাজেই নিজেদের প্রয়োজনেই সাধারণত কোন অফিসারই ফিটনেসের সাথে কম্প্রোমাইজ করে না।

১৪। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে কি কি বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়?

ক। একাডেমিক – প্রত্যেককে বাধ্যতামুলকভাবে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনাল এর অধীনে। এছাড়াও ট্যাক্টিক্স বা রণ কৌশল সহ অন্যান্য সামরিক বিষয়াবলীর ওপর বিশদ জ্ঞানার্জন করতে হয়। প্রশিক্ষণ দুই বছরের হলেও গ্র্যাজুয়েশন করতে তিন বছর লাগে। এর ধারাবাহিকতায় কমিশনের পর সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অবস্থায় এই পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে হয়। এখানে সাইন্স এবং আর্টস এর বিষয় গুলি ছাড়াও অতিরিক্ত কিছু বিষয় পড়ানো হয়।

একজন সাইন্সের স্টুডেন্ট এর বিষয়গুলো সাধারণত এরকম –

বাংলা, ইংরেজী, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিক্স, (আর্টস এর ছাত্রদের জন্য ইকোনোমিক্স, পলিটিক্যাল সাইন্স ইত্যাদি )
সামরিক বিষয় যেমন- ম্যাপ রিডিং, ট্যাক্টিকস, মিলিটারি হিস্ট্রি, মিলিটারি সাইন্স, ন্যাশনাল এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিস, মিলিটারি ল, অ্যাডমিনেস্ট্রেশন অ্যান্ড মোরাল, কমান্ড এন্ড লীডারশীপ ইত্যাদি।

সামরিক বিষয়গুলো সব ক্যাডেটকে বাধ্যতামূলকভাবে অধ্যয়ন করতে হয়

খ। শারীরিক – 
শারীরিক প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এক্ষেত্রে ধীরে ধীরে শারীরিক উৎকর্ষ এমন একটি পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয় যে দুই বছরের মধ্যে প্রত্যেকের ফিটনেস অসাধারণ হয়ে ওঠে।

গ। অস্ত্র প্রশিক্ষণ – পয়েন্ট টু টু বোর রাইফেল থেকে শুরু করে পিস্তল, রাইফেল, সাব মেশিনগান, লাইট মেশিনগান, রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড, বিভিন্ন ধরণের এক্সপ্লোসিভ ইত্যাদি সহ প্রচলিত প্রায় সব ধরণের অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ করে তোলা হয় প্রত্যেক সেনা অফিসারকে। সাধারণত প্রত্যেক সেনা অফিসারই একজন দক্ষ বা শার্প শুটার হিসেবে বিবেচিত।

ঘ। চারিত্রিক প্রশিক্ষণ – “A gentleman or gentlewoman should lead a life of HONESTY and INTEGRITY. He or she shall not LIE, CHEAT or STEAL”। এইটা মিলিটারি একাডেমীর HONOUR CODE নামে পরিচিত যা প্রত্যেক ক্যাডেটকে শুধু মানতেই হয় না, আত্মস্থ করতে হয়। চারিত্রিক বিষয়ে বিএমএ তে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। এমন ঘটনাও শুনেছি যারা প্রায় দুই বছর প্রশিক্ষণ নেয়ার পর অফিসার হওয়ার ঠিক আগে আগে ছোটখাট অনেক কারণে একাডেমী থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও প্রত্যেককে কমান্ড এবং লীডারশীপের ওপর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এক একজন দক্ষ কমান্ডার হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এসবের বাইরেও ধর্মীয় বিষয়, নিয়মিত ড্রিল, হর্স রাইডিং, ভেহিক্যাল ড্রাইভিং, র‍্যাপেলিং বা হেলিকপ্টার থেকে র‍্যাপেলিং, প্যারা জাম্পিং, স্কুবা ডাইভিং ইত্যাদি নানা রকম প্রশিক্ষণ দেয়া হয় ক্যাডেটদেরকে।

কমিউনিকেশন স্কিল বৃদ্ধি করতে পাবলিক স্পিকিং এর পর্যাপ্ত অনুশীলন সহ ল্যাংগুয়েজ ল্যাবেরটরিতে সঠিক ভাবে বাংলা ও ইংরেজি উচ্চারণের প্রশিক্ষণ (বি এম এ ছাড়া এরকম ল্যাংগুয়েজ ল্যাবেরটরি সম্ভবত শুধুমাত্র ব্রিটিশ কাউন্সিলেই আছে) দেয়া হয় সব ক্যাডেটকে। এ কারণে প্রায় সব সেনা অফিসারেরই সাধারণত বাংলা ও ইংরেজীতে কমিউনিকেশন স্কিল বেশ ভাল হয়ে থাকে।

তবে সততা বা চরিত্রের উপর সরবাধিক গুরুত্ব থাকে সবসময়। কর্তৃপক্ষ যদি মনে করে যে কারো সততার কোন অভাব আছে বা চারিত্রিক কোন সমস্যা আছে তাহলে তাকে যে কোন পর্যায়েই একাডেমী থেকে বহিস্কার করা হয়। এছাড়াও প্রশিক্ষণের সময় ইনজুরড হয়েও অনেককে বাড়ি চলে যেতে হয়। অনেকে আবার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে স্বেচ্ছায় বিএমএ থেকে চলে যায়। প্রতি ব্যাচে বা কোর্সে গড়ে ১০-১৫ জন এ ধরণের বহিস্কারের শিকার হয়।

১৫। ইউ এন মিশনে বাংলাদেশের সেনাদের এত চাহিদা কেন ? মিশনে সেনারা কি করে ?

ইউএন এ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এত চাহিদার কারণের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু বিষয়। অনেকেরই একটা ধারণা আছে যে, আমাদের সেনাবাহিনী এমন কি হয়ে গেল যে সারা দুনিয়ায় এত চাহিদা। এই গরীব দেশের আর্মির অস্ত্র সাজসরঞ্জাম কিই বা আছে। দুনিয়ায় এত উন্নত দেশের আর্মি আর সাজ সরঞ্জাম থাকতে কেন বাংলাদেশ ইউএন এ সবোচ্চ সংখ্যক সেনা পাঠাচ্ছে।

আসলে বাংলাদেশ আর্মির মত এত সস্তায় এত ভাল পারফরম্যান্স অন্য কোন আর্মির কাছে ইউএন পায় না বলেই এদের এত চাহিদা। ন্যাটো সহ অন্যান্য ফোর্স চৌকস হলেও ভীষণ ব্যয়বহুল। একই সাথে আছে ডিসিপ্লিনের ব্যাপার, বিশেষত আফ্রিকার দেশগুলোতে অবাধ যৌনাচারে অভ্যস্ত সেনা সদস্যদের এইডস আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা। সেদিক থেকে আমাদের দেশের সেনারা অনেক নিরাপদ।

এখন আসি মিশন এলাকায় আমাদের সেনাদের কাজ প্রসঙ্গে। মিশন চলে যুদ্ধরত বা যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশ গুলোতে। এসকল বেশির ভাগ দেশেই সরকারের বিরোধী বিদ্রোহী গ্রুপ থাকে যারা সুযোগ পেলে ইউএন ট্রুপসের ওপরও হামলা চালায়।

 তাদের নিবৃত্ত করে যুদ্ধরত বা যুদ্ধবিদ্ধস্থ একটা দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিন্তু খুব সহজ কাজ নয়। বিশেষত সেই দেশগুলো যখন আফ্রিকার (কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধরত, কিছু ক্ষেত্রে আধা সভ্য বা বর্বর) মানুষে পরিপূর্ণ। কিন্তু আমাদের সেনারা এই দুরহ কাজটি অত্যন্ত সফলভাবে করে যাচ্ছে এবং সারা বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার পাশাপাশি দেশকে প্রচুর রেমিট্যান্স দিচ্ছে বহিঃবিশ্বের মানুষ যে কয়টি কারণে বাংলাদেশের নাম জানে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইউএন মিশনে সর্বোচ্চ শান্তি রক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে।

প্রায়ই একটা কথা শোনা যায় যে আমাদের সেনা বাহিনী যুদ্ধ করারা উপযোগী কি না। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কিন্তু আমাদের কিন্তু সেনাদের প্রায়ই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে কাজ করতে হয়। গত বছর আইভরি কোস্টে যখন যুদ্ধ দানা বেঁধেছিল তখন কিন্তু আমাদের দেশের সেনারাই শান্তি রক্ষায় বলিষ্ঠ ভুমিকা রেখে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। এর আগে কঙ্গোতে শান্তিরক্ষা করতে গিয়ে বিপ্লবীদের সাথে যুদ্ধে বেশ কয়েকবার হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

মিশনে যুদ্ধ করতে যে সরঞ্জামাদি লাগে, সেগুলো জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী না হলে তার ভাড়া পাওয়া যায়না।

জাতিসংঘ কতৃক এই নিয়ম করা হয়েছে যাতে করে ভালো সরঞ্জামাদির মাধ্যমে শান্তি রক্ষীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। অথচ আমাদের সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরনো এবং ঝুঁকি-পূর্ণ সরঞ্জামাদি দিয়ে মিশন করে আসে।

 নইলে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা লাগতো এ সব সরঞ্জাম কিনতে। তারা পুরনো সরঞ্জাম নিয়ে যায় এই মোটিভেশনে যে, আমাদের দেশ গরীব, নতুন সরঞ্জাম কেনার পয়সা নেই। কষ্টটা না হয় আমরাই করি।

যখন জাতিসংঘ থেকে যখন ইন্সপেকশনে আসে, তখন, সাধ্যের সব কিছু দিয়ে সেই পুরোনো জিনিষ গুলোকে “যুদ্ধোপযুক্ত” হিসেবে সার্টিফাই করায় তারা। কারণ, যুদ্ধোপযুক্ত না হলে রিম্বার্সমেন্টের টাকা পাওয়া যাবেনা।

রিম্বার্সমেন্টের এই টাকা কিন্তু সেনারা নিজেরা পায়না। পায় সরকার। মিশনে সেনাদের থাকার জন্য পাকা ঘর পাওয়ার কথা। জাতিসংঘ সেই ঘর না দিতে পারলে বিনিময়ে টাকা দেয়। আমাদের সেনারা বেশির ভাগ সময়েই তাবুতে থাকে।

 তাবুতে থাকার কারণে প্রাপ্ত মোটা অংকের পুরো টাকাটাই কিন্তু সরকারী কোষাগারে জমা হয়।

আমরা গার্মেন্টস সহ অন্যান্য অনেক শিল্পের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের ব্যাপারে অবগত আছি। একই সাথে এটাও সত্য যে এদেশেই শ্রমিকদের প্রাপ্য সামান্য বেতনের জন্য রাজপথে নামতে হয়। তেমনি বিপুল পরিমান রাজস্ব প্রদানকারী সেনাবাহিনীর এই রূপটি কিন্তু আমাদের অগোচরেই থাকে। চোখের সামনে আমাদের শুধু ভাসে জলপাই রঙের নির্মমতা। দুর্ভাগা আমরা, কত ডেডিকেশন নিয়ে কাজ করলে আফ্রিকার একটা দেশের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বাংলাকে অধিষ্ঠিত করে দেশকে এমন বিরল সম্মান এনে দেয়া যায় কখনো ভেবেছেন কি?

১৬। প্রায়ই একটা কথা শোনা যায় যে আমাদের আশে পাশের দেশ যদি আমাদের আক্রমণ করে তাহলে আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা ধোপে টিকবে না। আসলে এই আশংকা কতটুকু সত্যি বা মিথ্যা ?

এই ব্যাপারটি একটি খুব কমন আলোচনার বিষয়। কোন দেশের প্রকৃত সামরিক শক্তি কখনই সেই দেশ প্রকাশ করে না। এটি টপ সিক্রেট বিষয়। আর যুদ্ধে জিততে কিন্তু শুধু সামরিক শক্তিই একমাত্র নিয়ামক নয়। এর সাথে আরও অনেক বিষয় জড়িত। আমি কোন সামরিক বিশ্লেষণ এখানে করব না। একজন মুক্তিযোদ্ধা সামরিক অফিসারের সাথে এই নিয়ে একদিন কথা হয়েছিল। ওনার বক্তব্য খুব ভাল লেগেছিল। সেটাই এখানে তুলে দিলাম
“প্রথমত বাংলাদেশের ভুমি প্রকৃতি এমন যে এখানে যারা আক্রমণ করতে আসবে তারা চলাচল ও জায়গা দখলের ক্ষেত্রে মারাত্নক সমস্যায় পড়বে। এজন্য বাংলাদেশকে বলা হয় “ DEFENDERS PARADISE ”. আমদের দেশে আর্মির সাতটি ডিভিশন আছে। সামরিক সুত্র অনু্যায়ী কমপক্ষে একুশটি ডিভিশন নিয়ে এখানে আক্রমণ করতে হবে। যা করতে গেলে এমনকি ভারতেরও পাকিস্তান এবং চীনের বর্ডার সংলগ্ন সেনানিবাস থেকে সৈন্য আনতে হবে, সীমান্ত প্রায় অরক্ষিত রেখে। যা তারা কখনই করতে চাইবে না।

এরপর যদি প্রচলিত যুদ্ধ ব্যাবস্থায় আমরা না পারি, তখন আমরা গেরিলা যুদ্ধ শুরু করব। যেমনটি আমরা করেছিলাম ১৯৭১ সালে। তখন আমাদের রেগুলার আর্মি ছিল না। শুধু আমরা কয়েকজন অফিসার আর বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও আর্টিলারি রেজিমেন্টের সৈনিকেরা দেশের মানুষের সাথে মিলে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিলাম এবং পাকিস্তানীদের পরাস্ত করেছিলাম। এরপরও না পারলে হবে টোটাল পিপলস ওয়ার, যেটির মাধ্যমে ভিয়েতনাম ইউ এস এর মত পরাশক্তিকে পরাজিত করেছিল।’’

সূত্রঃ
১। বাংলাদেশ আর্মির ওয়েবসাইট
২। বিভিন্ন সামরিক কর্মকর্তার সাথে কথোপকথনে প্রাপ্ত তথ্য
friendsblog

ভেড়া চড়ানো মেয়েটি এখন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী!




১৯৭৭ সালে মরক্কোয় রক্ষণশীল গরিব মুসলিম পরিবারে জন্ম তার। বাবা নির্মাণশ্রমিক। কোনো মতে টেনেচুনে সংসার চলে। ছোট্ট মেয়েটি মাঠে মাঠে ভেড়া চড়িয়ে বেড়ায়। আর আজ সেই মেয়েটিই ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী। তিনি নাজাত বেল কাশেম।

মেয়েকে পড়াশোনা করানো সামর্থ্য ছিল না বাবার। ওইটুকু মেয়ের জেদ সে পড়াশোনা করবেই। সারাদিন মাঠে ভেড়া চড়িয়ে, মায়ের সঙ্গে দুধ বিক্রি করে সন্ধেবেলায় বাড়ি ফেরা। তার পরই পড়তে বসা।

বেশি টাকা উপার্জনের জন্য নজতের বাবা চলে যান ফ্রান্সে। পরে পরিবারকেও সেখানে নিয়ে যান। সেখানে গিয়েও পড়াশোনা থামেনি নজতের।

২০০২ সালে প্যারিস ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজ থেকে স্নাতক হোন নাজাত। ছাত্রাবস্থাতেই সমাজতান্ত্রিক দলে (সোশ্যালিস্ট পার্টি) যোগ দেন। রাজনীতিই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তার মতো গরিব পরিবারগুলোর জন্য লড়াই শুরু করেন নাজাত। ধীরে ধীরে ফ্রান্সের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। লড়াই করেছেন জাতিভেদের (রেসিজম) বিরুদ্ধেও।

২০০৮ সালে রোন আল্পাইন থেকে কাউন্সিল মেম্বার নির্বাচিত হোন নাজাত। এরপর থেকে আর হারেননি। ২০১২ সালে নারী অধিকার মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের মুখপাত্রও নিযুক্ত হন।

কাজ এবং দক্ষতার জন্য ২০১৫ সালের নাজাতকে ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

ট্রল হিসেবে বিশ্বে কোটি কোটিবার ব্যবহৃত এই ছবিটির আসল পরিচয় জানেন?


এই ছবিটি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, বা টুইটারে অজস্রবার দেখেছেন। চলতি কথায় এই ধরনের ছবিকে বলা হয় মেমে। ইউরোপ, আমেরিকায় এই ছবিটি পরিচিত ‘ফাক দ্যাট গাই’ বা ‘ডাম্ব বিচ’নামে। বর্তমানে ফেসবুকের বিভিন্ন বাংলা পেজের পোস্টগুলোতেও ট্রল হিসেবে এই ছবিটি ব্যবহার করা হয় বেশ। সাধারণত খুব হাস্যকর কোনও পরিস্থিতির উপযুক্ত অভিব্যক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয় ছবিটি। কিন্তু এই ছবিটি কার? কোনও বাস্তব মানুষের মুখ কি এটি, নাকি কাল্পনিক কোনও চেহারা? আসুন, জেনে নেওয়া যাক উত্তর।


আসলে এই মানুষটির নাম ইয়াও মিং। পেশায় তি‌নি একজন বাস্কেটবল প্লেয়ার, আদপে চীনের বাসিন্দা। বর্তমানে আমেরিকায় এনবিএ বাস্কেটবল খেলছেন তিনি। ইয়াও এনবিএ-র সবচেয়ে লম্বা প্লেয়ার। উচ্চতা ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি। এই ছবিটি তৈরি করা হয় ইয়াও-এর এক বিশেষ মুহূর্তের অভিব্যক্তি অবলম্বনে। ২০০৯ সালে একটা বাস্কেটবল ম্যাচের পরে সাংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের যে ভিডিও রেকর্ডিং করা হয় তারই একটি অংশে ইয়াও-এর মুখে ফুটে ওঠে এই অভিব্যক্তি। ২০১০ সালে‘রেজ কমিকস’ ক্যাম্পেনের মাধ্যমে ‘ডাম্ব বিচ’ নামে ইয়াও-এর সেই অভিব্যক্তির আদলে তৈরি মেমেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তারপর মেমেটির জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সময় লাগেনি।

সাংবাদিক সম্মেলনের সেই বিশেষ মুহূর্ত যা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি ব্যবহার হচ্ছে

স্ত্রীর পরকীয়ার ইচ্ছা আমার ইচ্ছা ওস্বামীর প্রতিক্রিয়া



পরকীয়া সম্পর্ক বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডের পূর্ণ বয়স্ক মানুষদের মধ্যে শতকরা ৫৬ জনই পরকীয়ায় যুক্ত।

বেশিরভাগ সমাজে পরকীয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো আইন না থাকলেও সকল সমাজেই এটি নৈতিকভাবে বিবর্জিত। 

পরকীয়ার প্রতি মানুষের নৈতিক ঘৃণা সৃষ্টির জন্য সম্প্রতি ভারতের অভিনেতা ভরুণ প্রুথি ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন। ভিডিওটিতে দেখা গেছে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ে জানার পর তিনি স্ত্রীর সামনে গিয়ে নিজেকে হত্যার জন্য মাথায় বন্দুক ধরেন। 

এতে তার স্ত্রী কিছুটা ভয় পেলে তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, তোমার মতো বিশ্বাসঘাতক স্ত্রীর জন্য আমি আমার নিজের জীবন শেষ করবো না। দেখুন ভিডিওটি। সচেতনতা তৈরীতে এটি কাজে লাগতে পারে।

শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য এই ভিডিও



একটি সামান্য মশা মারার ব্যাট দিয়ে আপনি নিজেই ঘরে বসে বানাতে পারেন ৫,০০০ ভোল্ট ক্ষমতা সম্পন্ন Taser অথবা Stun Gun যা আমাদের দেশের ইভ-টিজার, নারী নিপীড়ক ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে।

আমাদের দেশে এর ব্যাবহার না থাকলেও উন্নত দেশের মেয়েরা এটা সম্ভ্রমরক্ষার প্রয়োজনে ব্যাবহার করে। ভিডিওটা দেখুন, খুব সহজে মাত্র ১৫ মিনিটেই আপনি এটা বানাতে পারবেন, সবসময় সাথে রাখুন আর প্রয়োজন পড়লে এটা দুর্বৃত্তদের গায়ে চেপে সুইচ টিপে দিয়ে মজা দেখুন।

সহজে Taser অথবা Stun Gun বানানোর প্রচুর ভিডিও খুজে পাবেন YouTube –এ, মেয়েদের মধ্যে যারা একটু Daring টাইপের, তাঁরা ৫০,০০০ ভোল্ট এর জন্য ট্রাই করতে পারেন যা কিনা দুর্বৃত্তকে ৩০ মিনিটের জন্য প্যারালাইজড করে দিতে পারে! কিন্তু সাবধানের সাথে ব্যাবহার করবেন, নিজে যেন আহত না হন সেদিকেও খেয়াল রাখবেন। সবাই নিরাপদ থাকুন... শুভকামনা সবার জন্য!




কৃতজ্ঞতা: হিল্লোল হক

0
প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ স. এর রওজা মোবারকের ভিতরের দুর্লভ দৃশ্য (ভিডিও) প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ স. এর রওজা মোবারকের ভিতরের দুর্লভ দৃশ্য (ভিডিও)

প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সঃ) এর রওজা মোবারক এর ভিতরের দৃশ্য এক সময় দেখার সুযোগ থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় অসম্ভব। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব রাসু...

0
যে কারণে কি-বোর্ডে A,B,C...X,Y,Z পাশাপাশি থাকে না যে কারণে কি-বোর্ডে A,B,C...X,Y,Z পাশাপাশি থাকে না

কম্পিউটার থেকে ল্যাপটপ, কোথাওই ইংরেজি বর্ণমালার লেটারগুলি কি-বোর্ডে পাশাপাশি থাকে না। সেই আদ্যিকালের টাইপ রাইটারের মতো ছড়ানো ছিটানো। লেখার ...

0
‘এই নারী ফেসবুকে থাকলে জলদি ডিলিট করুন’ ‘এই নারী ফেসবুকে থাকলে জলদি ডিলিট করুন’

   মধু শাহ অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল ছবি। ছবি : জি নিউজ ‘এই নারী আপনার ফেসবুকে থাকলে জলদি ডিলিট করুন’-এক নারীর ছবিসহ এমনই একটি সংবাদ পরিবেশন কর...

0
সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে নকল ডিম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে নকল ডিম

নকল বা কৃত্রিম ডিমের কথা এখন সবাই জানেন। অনেকেই বিষয়টিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিলেও এখন আর সেটা গুজবের পর্যায়ে নেই। কেননা খোদ বাংলাদেশেই নকল ডিম ক...

0
জীবনে কিছুই করতে পারবি না, ওয়ার্নারকে শিক্ষকের ভবিষ্যদ্বাণী জীবনে কিছুই করতে পারবি না, ওয়ার্নারকে শিক্ষকের ভবিষ্যদ্বাণী

ছোট বেলায় পড়াশোনায় বেশ অমনোযোগী ছিল ওয়ার্নার। তাই শিক্ষক রেগে একদিন স্কুলের রিপোর্ট কার্ডে লিখে দিয়েছিলেন, ‘সে শুধু সং সাজতে চায়।’ এমনকি ভবি...

0
২৬ বছর পরও অক্ষত কোরআনে হাফেজের লাশ ২৬ বছর পরও অক্ষত কোরআনে হাফেজের লাশ

নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২৬ বছর পর অক্ষত রয়ে গেছে কোরাআনে হাফেজ এর লাশ! এমন কথা শোনার পর শতশত মানুষ তা দেখতে ভীড় করেন।  সাংবাদিকর...

0
যেখান থেকে পরিচালিত হয় সমগ্র ইন্টারনেট… যেখান থেকে পরিচালিত হয় সমগ্র ইন্টারনেট…

গুগলে কোনো বিষয় সার্চ করলে আপনার সামনে অসংখ্য ফলাফল চলে আসে, যা থেকে আপনি তথ্যের চাহিদা মেটানো, বিনোদন, সংবাদ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব...

0
প্লাস্টিক পণ্য আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে তিল তিল মৃত্যুর দিকে প্লাস্টিক পণ্য আপনাকে ঠেলে দিচ্ছে তিল তিল মৃত্যুর দিকে

প্রতিদিন বিশ্বে প্রতি পাঁচ মিনিটে প্রায় ২০ লক্ষ প্লাস্টিক বোতল বিক্রয় হয়। নির্দ্বিধায় বলা যায় যে প্লাস্টিক হচ্ছে পুরো বিশ্বেই বহুল ব্যবহৃত এ...

0
শপিং মল-এর দরজায় আচমকা তীব্র হাওয়া টের পেয়েছেন? কেন থাকে জানেন? শপিং মল-এর দরজায় আচমকা তীব্র হাওয়া টের পেয়েছেন? কেন থাকে জানেন?

শপিং মল বা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ঢোকার সময়ে একটা জিনিস খেয়াল করেছেন? স্বয়ংক্রিয় কাচের দরজা খুলে যাওয়ার পরে হুস্ করে একটা হাওয়া মাথার উপর থেক...

0
অনেক পুরুষেরও কেন বড় স্তন হয়? অনেক পুরুষেরও কেন বড় স্তন হয়?

এখন সিক্স প্যাক অ্যাব, চওড়া ছাতি, পুরুষালি চেহারার জন্য মাননসই স্তন পেতে চিকিৎসকের ছুড়ির তলায় আসতে পিছপা হচ্ছে না তরুণ প্রজন্ম। অথচ ১০ বছর আ...

0
জল্লাদ শাহজাহানের জীবনের করুণ কাহিনী জল্লাদ শাহজাহানের জীবনের করুণ কাহিনী

যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরে জল্লাদের ভূমিকা...

0
লন্ডনের রাস্তায় সুবহানাল্লাহ লেখা বাস লন্ডনের রাস্তায় সুবহানাল্লাহ লেখা বাস

রমজান মাসে সিরিয়া যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু করেছে একটি ব্রিটিশ মুসলিম দাতব্য সংস্থা। ওই প্রচারণ...

0
তিন বছর বয়সেই কোরআনের হাফেজ! (ভিডিও) তিন বছর বয়সেই কোরআনের হাফেজ! (ভিডিও)

এ কথা আমরা সবাই জানি যে, কোরআন শরিফের আগে আরো অনেক আসমানি কিতাব-সহিফা নাজিল হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে কোরআন শরিফ পুরোপুরি ব্যতিক্রম। কোরআন সর্বশেষ ...

0
মাছের গায়ে মহান আল্লাহ্ ও রাসুল স. এর নাম মাছের গায়ে মহান আল্লাহ্ ও রাসুল স. এর নাম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মাছের গায়ে আল্লাহ ও হযরত মোহাম্মাদ (সঃ)-এর নাম লেখা সংবলিত তিনটি মাছ ধরা পড়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার কাজিপুর মাদ্রাসা পু...

0
হোটেল আর মোটেলের পার্থক্য কী হোটেল আর মোটেলের পার্থক্য কী

 অনেকেই জানে না হোটেল আর মোটেলের পার্থক্য। এ নিয়ে অনেকেই বিব্রতকর অবস্থায় পরেন। চলুন জেনে নেই হোটেল এবং মোটেলের পার্থক্য। ১। হোটেল বহুতলবিশি...

0
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে জানা অজানা কিছু তথ্য! বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে জানা অজানা কিছু তথ্য!

১। সেনাবাহিনীতে কত ধরনের বিভাগ (কোর) রয়েছে ? সেনাবাহিনীর বিভাগ বা কোর গুলোর নাম খুব সংক্ষিপ্ত এবং সহজবোধ্য করে নিচে দেয়া হল ক। আর্মার্ড – ট্...

0
ভেড়া চড়ানো মেয়েটি এখন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী! ভেড়া চড়ানো মেয়েটি এখন ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী!

১৯৭৭ সালে মরক্কোয় রক্ষণশীল গরিব মুসলিম পরিবারে জন্ম তার। বাবা নির্মাণশ্রমিক। কোনো মতে টেনেচুনে সংসার চলে। ছোট্ট মেয়েটি মাঠে মাঠে ভেড়া চড়িয়ে...

0
ট্রল হিসেবে বিশ্বে কোটি কোটিবার ব্যবহৃত এই ছবিটির আসল পরিচয় জানেন? ট্রল হিসেবে বিশ্বে কোটি কোটিবার ব্যবহৃত এই ছবিটির আসল পরিচয় জানেন?

এই ছবিটি ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, বা টুইটারে অজস্রবার দেখেছেন। চলতি কথায় এই ধরনের ছবিকে বলা হয় মেমে। ইউরোপ, আমেরিকায় এই ছবিটি পরিচিত ‘ফাক দ্যাট ...

0
স্ত্রীর পরকীয়ার ইচ্ছা আমার ইচ্ছা ওস্বামীর প্রতিক্রিয়া স্ত্রীর পরকীয়ার ইচ্ছা আমার ইচ্ছা ওস্বামীর প্রতিক্রিয়া

পরকীয়া সম্পর্ক বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডের পূর্ণ বয়স্ক মানুষদের মধ্যে শতকরা ৫৬ জনই প...

0
শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য এই ভিডিও শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য এই ভিডিও

একটি সামান্য মশা মারার ব্যাট দিয়ে আপনি নিজেই ঘরে বসে বানাতে পারেন ৫,০০০ ভোল্ট ক্ষমতা সম্পন্ন Taser অথবা Stun Gun যা আমাদের দেশের ইভ-টিজার, ন...